বিজ্ঞাপন

৬ষ্ট বর্ষে শিশুকিশোর টুনটুনি! টুনটুনির সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা!

তোমাদের ছড়া-কবিতা












মেঘের বুড়ি | আহমেদ কিবরিয়া











মেঘের বুড়ি, মেঘের বুড়ি

রাগ করেছে খুব,
তাইতো এবার ভয় দেখিয়ে
বলে তোরা চুপ!
আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হলে,
কদমফুলের বিয়ে,
সেই বিয়েতে গীত গাইবে,
সবুজ রঙের টিয়ে।
তাই না দেখে ব্যাঙ মামারা
দিচ্ছে জলে ডুব।
সাঁতার কেটে আজকে তাদের
দিন কেটে যায় খুব।
ঘ্যাঙর, ঘ্যাঙর ডাকছে তারা,
বুড়ির নাকি জামাই ওরা,
সেই খুশিতে শামুক ছানা বাজায় বিয়ের ঢোল,
হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে
সকাল, বিকাল দিনের শেষে,
জলে কাঁদায় ঘোল।
মেঘের বুড়ি, মেঘের বুড়ি
ফোঁকলা দাঁতে হাসছো তুমি?
হেসেই করো সাফ!
পুকুর, ডোবা ভিজিয়ে দিয়ে
খুব করেছো লাভ।
পুঁটিমাছ আর কাঁকড়ারা সব
করছে মিটিং জলে,
বোকা বুড়ি, মেঘের বুড়ি!
তোমায় ওরা বলে।


আহমেদ কিবরিয়া

পরিত্রাণ | শিরীন আফরোজ রানী









দয়াময় ওগো তোমার কাছে একটু পানাহ চাই,
করোনা ভাইরাস থেকে আজ পরিত্রাণ যেন পাই!
চাতক চোখে চেয়ে আছি
দয়া পাব বলে,
দোয়া দরুদ পড়তে থাকি
ভেসে চোখের জলে।
বারে বারে নবী পাঠিয়ে করেছিলে সাবধান!
পথ দেখাও আজ কেমন করে
পাব যে পরিত্রাণ!!
সৃষ্টি তোমার দৃষ্টি তোমার আমরা আজ অসহায়,
পাপী ,তাপী হইনা কেন
তুমি হওনা সহায়।

তুহিন কুমার চন্দ্রের একগুচ্ছ ছড়া-কবিতা












বাঘ মহারাজ ও বাঁদরের গল্প | মানস রায়

 


দুপুর দুপর আহার সেরে বাঘ মহারাজ নিদ্রা গেছেন সুখে, এমন সময় হঠাৎ একটি বাঁদর কাঁদতে কাঁদতে সটান হাজির হলেন মহারাজের দরবারে। শান্তিপ্রিয় সেই বাঘ মহারাজ কে সে জঙ্গলে মান্য করে সবাই, সব্বাই তার কথা শোনে নির্দ্বিধায়। বেশ গম্ভীর ভাবে বাঘ মহারাজ বাঁদর টিকে জিজ্ঞেস করলেন, ঠিক কি উদ্যেশ্যে এই ভর দুপুরে বিরক্ত করতে তার এখানে আসা। কিছুটা ভয় পেয়ে যায় বাঁদর, তারপর কাপা কাপা স্বরে বলতে থাকে "মহারাজ, আজ সকালে ছানা তিনটিকে রেখে খাবারের সন্ধানে একটু বেরিয়েছিলাম, এসে দেখি দুটি ছানা বেমালুম উধাও, অনেক ক্ষণ হন্যে হয়ে খোঁজাখুজির পর, দেখতে পেলাম পাশের জঙ্গলের শয়তান বাঘা কচ মচ করে আমার ছানা দুটিকে চেবাচ্ছে "। রাগে গর্জে উঠলেন বাঘ মহারাজ, শয়তান বাঘা এই জঙ্গলে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী , আজকাল জঙ্গলে তার অত্যাচার দিন কে দিন বেড়েই চলছে, নিরীহ পশু পাখি, বাঁদর সমেত কেউই রেহাই পাচ্ছে না বাঘার হাত থেকে। দিন কয়েক আগেই বাঘ মহারাজ ও শয়তান বাঘার মধ্যে একরকম বোঝা পড়া সম্পূর্ণ হয়েছে, কেউ কারো এলাকা ছেড়ে কখনোই বেরোবে না, যে যার নিজের এলাকায় শিকার করবে, তো বাঘার সাহস কিকরে হয়, কথার খেলাপ করে, আমার এলাকায় ঢুকে, আমার জন্তুদেরই হত্যা করে সে। মহারাজ গর্জাতে থাকলেন । মনে মনে ফন্দি আঁটলেন এবারে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন বাঘা কে। কিভাবে জব্দ করা যায় তাকে এই ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একদিন বাঘ মহারাজের মাথায় খেলে গেল এক অদ্ভুত বুদ্ধি । দূত মারফত শয়তান বাঘার কাছে বার্তা পাঠালেন মহারাজ, তাকে ভুঁড়িভোজের আমন্ত্রণ জানালেন। খানা পিনায় ওস্তাদ লোভী বাঘা শত্রুতা ভুলে মহারাজের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন এবং নির্দিষ্ট দিনে হাজির হলেন মহারাজের দরবারে। হরেক রকম রান্নার পসরা সাজিয়ে মহারাজ আগাম প্রস্তুত ছিলেন। পছন্দের সব খাবারের পদ দেখতে পেয়ে শয়তান বাঘা এক নিমেষেই প্রায় সব কিছু সাবাড় করে দিলেন। হাপুস হুপুস করে চেটে পুটে বাঘা কে খেতে দেখে পাশ থেকে মনে মনে খিল খিলিয়ে হেসে উঠলেন বাঘ মহারাজ। 
পূর্ব পরিকল্পনা মতন সেই খাবারে মহারাজ, আগাম মিশিয়ে দিয়েছিলেন স্মৃতি শক্তি ও কর্ম ক্ষমতা লোপ করে দেওয়ার কয়েক টি ঔষুধের গুলি। আহার গ্রহণের পর শয়তান বাঘা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয় মহারাজের দরবারে। ব্যাস, ঘুম ভাঙার পর অতীতের যাবতীয় সব স্মৃতি লোপ পেয়ে যায় তার ও কর্ম ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে সে একনিমেষে । এরপর, শেষ মেস
বাঘা তার বাকি জীবনটা বাঘ মহারাজের অনুগত গোলাম হয়েই সে জঙ্গলে কাটিয়ে দেয় । শান্তি ফিরে আসে জঙ্গলে, পশু, পাখি, বাঁদর, হরিণ সমেত সমস্ত জন্তুরা ঠিক আগের মতই সুখ শান্তি ও হাসি খুশিতে দিন কাটাতে থাকলো সেখানে। শয়তান বাঘার শয়তানির ভয় আর রইল না সে জঙ্গলের নিরীহ পশু পাখিদের। 

শিক্ষা :- লোভ ও হিংসা মানুষ কে করুন পরিণতির দিকে ঠেলে দেয় 


মাকড়শা ও মোরগ পোকার গল্প | আশরাফ আলী চারু




রাতে প্রচন্ড   শীলামেঘ হয়েছে। মাঠে ঢেঁড়স গাছে বাস করা মোরগ পোকাটি শীলের আঘাতে একটা পাখায় ব্যথা পেয়ে পানিতে পড়ে হাবুডুবু করছে । পাশের গাছে বাস করা মাকড়শা  বিষয়টা দেখে তার সুতো বের করে মোরগ পোকার সামনে এগিয়ে দিল । সুতো দেখে মোরগ পোকাটি উঠে বসল। ধিরেধিরে সুতোয় উঠতে উঠতে ভাবতে লাগলো আমার কপালটাই খারাপ-পাখা ভেঙে পানিতে ডুবে মরছিলাম , এখন বাঁচার আশায় মাকড়শার সুতোয় উঠলাম । বাঁচার বৃথা চেষ্টা ,  মাকড়শা কি আমাকে বাঁচতে দিবে ?  সেতো আমাকে খাওয়ার জন্যই সুতো বিছিয়ে দিয়েছে । তার কাজই তো হলো সুতো দিয়ে শিকার ধরে খাওয়া । যাই হোক তবু সে ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এলো  মাকড়শার কাছে । সামনে এসেই কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই মাকড়শা একটু হেসে বলে উঠলো - ভাই মোরগ পোকা-ভয় পেয়োনা , আমি তোমাকে খাব না।তুমি তোমার বাসায় চলে যাও । মোরগ পোকা মাকড়শার উপকারের কথা আজীবন মনে রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে খুব খুশি হয়ে বাসায় ফিরে এলো । কিছুদিনের মধ্যে সে সুস্থ হয়ে উঠলো । 

কিছুদিন পরের ঘটনা মাকড়শা একদিন পানির পিপাসা মেটাতে ডুবায় গেল। সেখানের এক ব্যাঙ মাকড়শা কে দেখে খাওয়ার জন্য লোভ করল । সে এগিয়ে গেলো মাকড়শাকে ধরবে বলে । ধরবার সমস্ত প্রস্তুতি নিতে লাগলো সে । দূর হতে দেখে  সব বুঝতে পারলো মোরগ পোকা । সে দ্রুত এগিয়ে গেল সেখানে । মাকড়শাকে বাঁচাতে সে তার জীবনের ঝুঁকি নিল ।  একটু দূরে সাঁতার কাটা এক হাঁসের সামনে সে পাখা মেলে অঙ্গভঙি করতে লাগলো যাতে তার উপর হাঁসের চোখ পড়ে। তার ইচ্ছেমতো হাসের চোখ পড়লোও তার উপর।এবার সে পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যেতে লাগলো ব্যাঙের দিকে। হাঁসকে অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে দেখিয়ে সে প্রায় ব্যাঙের  কাছাকাছি চলে এলো । এবার হাঁসের চোখ পড়লো ব্যাঙের উপর ৷ হাঁসতো মহাখুশি । সে পোকার লোভ ছেড়ে ঘাড় বাড়ালো ব্যাঙের দিকে।আর একটু অপেক্ষা ব্যাঙ প্রায় মাকড়শাকে  ধরতে যাবে এমন সময় ঠোঁট হা করে হাঁস এগিয়ে এলো ব্যাঙের দিকে । ব্যাঙ বুঝতে পারলো হাঁস তাকেই ধরতে আসছে ।  ওমনি সে টুপ করে দিল ডুব । মোরগ পোকা পাখা মেলে উড়াল দিলো স্থলের দিকে । মাকড়শা দ্রুত সরে পড়লো সেখান থেকে । ব্যাঙের সাথে সাথে হাঁসও ডুব দিল ডুবার পানিতে । বেঁচে গেল মাকড়শা । 
মাকড়শা মোরগ পোকাকে ডেকে বললো - ভাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তোমার এই উপকারের কথা আমিও ভুলবনা। 

শিক্ষা- পরোপকার।