বিজ্ঞাপন

৬ষ্ট বর্ষে শিশুকিশোর টুনটুনি! টুনটুনির সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা!

পরিবেশ বাঁচান | আঞ্জুমান আরা।



 রাজু ক্লাশ সেভেনে পড়ে। স্কুল থেকে ফিরে এসে তাড়াতাড়ি করে দু'টো খেয়ে নেয়। তার পর আর পায় কে?সোজা মাঠে। বন্ধুদের কাউকে ডাকতে হয় না। খেলার মাঠে একত্রিত হওয়ার সময় সম্পর্ক সচেতন করার কোনো দরকার নেই। কারণ কিশোর বয়সে এই একটি ব্যাপারে সচেতনতা খোদার অসীম দান। 



চৈত্রের শেষে বিকেল বেলা যখন বৃষ্টি নামলো রাজু ও তার বন্ধুরা তখন মাঠে খেলছিলো। হঠাৎ দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো। নিমিষেই জীবন বাঁচাতে কে কেথায় উধাও হয়ে গেল, তার হিসেব রাখার জন্য মাঠে অবশিষ্ট আর কেউ ছিলোনা।

 ক্লান্ত দেহে বই পড়ার টেবিলে প্রতি দিনই ঝিমায় রাজু। মায়ের বকুনি খেতে খেতে পেটে পরে রোজকার রাতের খাবার। ওদিকে বৃষ্টিতে আজকের আবহাওয়ার খবর হলেই কাঁথা কম্বল জড়িয়ে আরামে ঘুমিয়ে পারো। তাই হলো।

 পরের দিন স্কুল থেকে ফিরে মাঠে খেলতে গেলো রাজু ও তার বন্ধুরা। মাঠে গিয়ে রাজু দেখতে পেলো অন্য পাড়ার কতগুলো দুষ্টু ছেলে ওদের মাঠে এসে ভীর করে আনন্দে মেতে উঠেছে। অথচ মাঠে জমে আছে প্রচুর পরিমানে পানি। ছেলেগুলো মাঠের দিকে শুধু ঢিল ছুঁড়ছে। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে গিয়ে রাজু দেখলো অসংখ্য ব্যাঙ গাল ফুলাচ্ছে আর ঘ্যঙোর ঘ্যাঙ করে ডাকছে।

  রাজু চেখ ছানাবড়া। ক্ষণিকের জন্য রাজু চমকে গেলো এই ভেবে, এতো ব্যাঙ কোথা থেকে আসলো ? আর ওরা লুকিয়ে ছিলোই বা কোথায়? কিন্তু দুষ্টু ছেলেগুলোর দুষ্টামি দেখে রাজুর মনটা ব্যথিত হলো। সে বইয়ে পড়েছে সকল জীবের প্রাণ আছে ও তাদের অনুভূতি আছে। আরো আছে বাঁচার অধিকার। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টিকর্তা মানুষেকে অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু দুষ্টু ছেলের দল ওদের কত নির্মম ভাবে মারছে। ওর মনে হলো ব্যাঙগুলো ওর কাছে বাঁচার আকুতি করছে। রাজু তার বন্ধুদের একপাশে ডেকে নিয়ে আসলো এবং গোল হয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,

 -ওরা যে ব্যাঙ গুলোকে মারছে তাতে তোদের কষ্ট লাগেনা ?  

পল্টু ও রকেট ঠোঁট দু'টো উল্টো করে বললো,

-নাহ!

মন খারাপ করে সিয়াম বললো,আমিও তোকে এই কথাটা বলতে চেয়েছিলাম রাজু।তাহলে চল ওদের বাঁচাই।

তারা সবাই মিলো দুষ্টু ছেলেগুলোকে তাড়িয়ে দিলো আর বেঁচে গেল কতগুলো প্রাণ।

সব কথা শোনার পর  মা আর কোনো দিন রাজুকে বকা দেননি।

 সিয়াম ইঞ্জিনিয়ার হলেও রাজু এখন প্রাণীবিদ্যার উপর ডিগ্রী লাভ করেছে। আর সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। 

অকারণে প্রাণী হত্যা বন্ধ  করুন,পরিবেশ বাঁচান।

ভূতের চিকিৎসা | আঞ্জুমান আরা

 



পাগল ভূতে কয় চেচিয়ে
জমেনা জমেনা,
তাবিজ কবজ কত দিলো
পাগলামি কমেনা।

নদীর জলে ডুবিয়ে রাখে
বেধে বস্তার মুখ,
তুললে আবার হেসে বলে
জলে বড্ড সুখ।

উল্টো করে গাছের ডালে
পা দু' টিকে বেঁধে,
পোটকা মাছ আর ব্যাঙের সুপ 
খেতে দিলে রেধে।

লোহা পুড়ে দিচ্ছে স্যাকা 
বদ্যি এসে তারে,
তার পরেও পাগলামি টা
বড্ড বেশি বাড়ে।

ত্রিশ দিন গাছের টেনে 
তুলবে তার বাপ কে,
দুবার করে চুমু খাবে
কিং কোবরা সাাপ কে।

গেলো চলে পাগলামিটা
ভূতের মাথা ঠান্ডা,
গেপন খবর মাঝ রাতে
বদ্যি মারে ডান্ডা।