বিজ্ঞাপন

৬ষ্ট বর্ষে শিশুকিশোর টুনটুনি! টুনটুনির সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা!

Free Printable Alphabet Tracing Worksheets for Preschoolers (PDF)

 Free Printable Alphabet Tracing Worksheets for Preschoolers (PDF)

Looking for a fun and educational way to help your toddlers practice writing? Download our Free Alphabet Tracing Worksheets PDF! These worksheets are perfect for preschoolers and kindergarten kids to learn letter formation from A to Z through interactive dot-to-dot tracing.

Features of this Printable PDF:

  • High-quality A4 printable pages.
  • Easy tracing lines for letters A-Z.
  • Engaging and fun layout for young learners.
  • free printable alphabet tracing worksheets pdf
  • a to z alphabet tracing worksheets for preschoolers
  • free kindergarten letter tracing worksheets printable
  • preschool alphabet writing practice sheets free download
  • toddler letter formation worksheets a-z pdf
  • free printable nursery rhymes and tracing activities

👇 To unlock your free PDF download, please click the button below and complete a quick, free verification task.

📥 Download Free Alphabet Worksheets (PDF)

টুনটুনি ইবুক টুনটুনি ইবুক


টুনটুনি ইবুক 
মার্চ/২০১৯

ফ্রী পড়তে ও ডাউনলোড করতে অবশ্যই নিচের  CPA  বাটনের শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। 
বইটি ডাউনলোড করার নিয়ম: নিচের বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি ভেরিফিকেশন পেজ আসবে। সেখানে কোনো লটারি বা টাকা কাটার অফার থাকলে তাতে অংশ নেবেন না। শুধুমাত্র আপনার ইমেইল আইডি (Email) বা পোস্টাল কোড (Zip Code) দিয়ে একটি সাধারণ কুইজ/সার্ভে পূরণ করুন। কোনো টাকা বা পিন নম্বর চাইলে তা দেবেন না। টাস্কটি শেষ হলেই বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হয়ে যাবে।"

            Download The EBook
                                                                       
                                                                               

 

EBook Archives

                             


কালজয়ী সাহিত্যিক

হুমায়ুন আহমেদ  এর বই “কিছুক্ষণ”
পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়তে আপনাকে অবশ্যই নিচের CPA বাটনের শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। 

বইটি ডাউনলোড করার নিয়ম: নিচের বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি ভেরিফিকেশন পেজ আসবে। সেখানে কোনো লটারি বা টাকা কাটার অফার থাকলে তাতে অংশ নেবেন না। শুধুমাত্র আপনার ইমেইল আইডি (Email) বা পোস্টাল কোড (Zip Code) দিয়ে একটি সাধারণ কুইজ/সার্ভে পূরণ করুন। কোনো টাকা বা পিন নম্বর চাইলে তা দেবেন না। টাস্কটি শেষ হলেই বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হয়ে যাবে।"
                Download The Ebook

বর্ষা মেয়ের নাচ । মজনু মিঞা

                                       

                             

   

টাপুরটুপুর বৃষ্টি দুপুর 
পায়ে দিয়ে রূপার নূপুর 
বর্ষা মেয়ে নাচে,
টিনের চালে ঝুমুরঝুমুর 
আনন্দ সুর বাজে।

গড়গড়িয়ে কলকলিয়ে 
ছুটছে ধারা ছলছলিয়ে
কি যে ভালো লাগে,
খোকাখুকু উদোম গায়ে 
কাদা জলে মাগে।

ভিজতে মানা নেই কি জানা
ভুলে গেলে হবে?
ঠাণ্ডা জ্বরে ধরলে পরে 
কেমন হবে তবে?

                                                                          Read More 

আফিয়াদের মোল্যা আম ও আমে পোকার রহস্য | সাঈদুর রহমান লিটন

 


আফিয়াদের বাড়িতে অনেক গুলো বড় বড় আম গাছ আছে । সব গাছেই আম ধরেছে। প্রায় সব গাছেই এখন আম পেকেছে। দেশাল আম। এ আমের বিশেষ কোন নাম নেই, যে নামে ডাকলে সারাদেশের মানুষ চিনবে। বাড়ির মানুষ চেনার জন্য  কিছু আম গাছের   নাম রাখা হয়েছে। যেমন গোলা আম, কাঁচা মিঠা আম, সিঁদুরে আম, টুইরে আম, টিয়ে বরণ আম, আরো বেশ কিছু এই জাতীয় নাম রাখা হয়েছে। নাম রাখার জন্য বিশেষত্ত্ব ও আছে, যেমন আমের ভিতর প্রচুর গোলা হয় তাই গোলা আম, কাঁচা থাকতেই মিষ্টি থাকে  তাই কাঁচা মিঠে আম, ছোট ছোট আম তাই টুইরে আম, আমের গায়ে সিঁদুরের মত লাল রঙ হয় তাই সিঁদুরে আম, আম পাকলেও সবুজ থাকে তাই টিয়ে বরণ আম। এই নাম গুলো রেখেছেন আফিয়ার দাদি। আম গাছ গুলো লাগিয়েছেন ও  তিনি। তিনি কোথাও গেলে যে আম খেয়ে ভালো লাগলেই সেই আমের  আঁঠি লাগিয়েছেন। তখন থেকেই নাম ও রেখেছেন। যেমন বাড়ির পশ্চিম পাশে একটা আম গাছ আছে মাঝারি সাইজের আম হয়।

সাইদুর রহমান লিটন এর একগুচ্ছ ছড়া

 




                                                ফেলে আসা গ্রাম

 

ইটের পরে ইট পরেছে

দেখতে মনোহর,

পাশাপাশি ঘেঁষাঘেঁষি

তবুও সবাই পর।

এই শহরে এসির মধ্যে

ভ্যাপসা গরম পরে,

পথের পরে রাস্তার মানুষ

বুটের তলায় মরে।

শহর জুড়ে কতো মানুষ

মানবতা নাই,

গাঁয়ের মানুষ অতি আপন

প্রানের ছোঁয়া পাই।

স্মৃতির পাতায় অতীত গুলো

বিন্দু বিন্দু ঘামে,

মনের মাঝে ছন্দ হারায়

পরলে পরে জ্যামে।

যানবাহনে ঢাকার শহর

যন্ত্রণার  এক ছবি,

ফেলে আসা গেরাম খানি

প্রভাত বেলার রবি।

   

মায়ের হাসি

 

আমার মায়ের স্বর্গ হাসি

মনে লাগে দোলা,

আমার মায়ের মিষ্টি হাসি

যায় না কভু ভোলা।

আমার মায়ের হাসির শোভা

চাঁদের সাথে মিলে,

আমার মায়ের দেখলে হাসি

সুখ পাওয়া যায় দিলে।

আমার মায়ের হাসি যেনো

ভোরের মিষ্টি আলো,

আমার মায়ের মুখের হাসি

দেখলে লাগে ভালো।

আমার মায়ের হাসির  ধারা

নদীর  মতো  গতি,

যত সুখের ফল্গুধারা

আমার মায়ের প্রতি।

আমার মায়ের হাসি মুখ

সোনার মত জ্বলে,

সবার সেরা আমার মা যে

                                 সকল লোকে বলে।             

বৃক্ষরোপন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচী নয়, এটি অস্তিত্বের লড়াই । মাহমুদুল হক আনসারী

 



পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমাদের চার পাশ গাছ পালা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। বাড়ির চার পাশে থাকা অনেক প্রাকৃতিক পরিবেশ কে আমরা ধ্বংস করে ফেলছি। পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খাল সমুহের  চার দিক দখল হচ্ছে।  পাহাড়ের গাছপালা উঝাড় করে ফেলছে। সারা দেশের বন বিভাগের সামনে এই সব বিলুপ্ত হচ্ছে।  পরিবেশ অধিদপ্তর আছে, কিন্তু  পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে না। প্রাকৃতিক যেই পরিবেশটি আল্লাহ  আমাদের জন্য সৃষ্টি করে দিয়েছেন  সেই পরিবেশটিক্ওে বাঁচিয়ে রাখছি না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গায়  গাছ লাগাই।  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খালি স্থানে বৃক্ষ রোপন করা যায়। ফল, শাক সব্জির ছোটো খাটো বাগান তৈরি করা যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা  ইমাম, মুয়াজ্জিন,  মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে এই বাগান ও ফল ফলাদি  পরিচর্যার ব্যাবস্থা নেয়া খুব সহজ বিষয়।  মসজিদের মুসল্লি, কমিটি, সন্মিলিত ভাবে বৃক্ষের নিয়মিত দেখবাল করতে পারে।  ফলে মসজিদের পরিবেশ সুন্দর হবে।  অর্থনৈতিক সফলতা ও আসবে। পুষ্টির চাহিদা মিটাতে পারবে। 

সরকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে নানা দপ্তর সৃষ্টি করেছে।  তারা এইসব দেখার কথা। কিন্তু  তারা যে ভাবে এই সব বিষয় দেখার কথা ছিল  সেই ভাবে দেশবাসি সেবাটি পাচ্ছে না।  তাদের কাছে কোনো নাগরিক  অভিযোগ করলে তাদের দৌড়া দৌড়ি দেখা যায়। আর ততদিনে সেই বাগান পাহাড় বন শেষ করে ফেলে ।  যাবো, যাচ্ছি,  করবো করছি  এইসব শুনতে হয় অভিযোগ কারিদের। 

ন্যাড়া পাহাড় গুলোকে গাছ লাগিয়ে  আবার সতেজ করা হউক। সারা দেশের বনজ সম্পদ রক্ষা করা হউক। চট্টগ্রামে সিতাকুন্ড, আকবরশাহ, বায়েজিদ , হাটহাজারি এলাকার পাহাড়  এখন চোঁখেপড়েনা।  এখানে সব দালান আর বাড়িঘর। হাজারে  হাজার মানুষের বসতি স্থাপন করেছে।  সেখানে সিন্ডিকেট।  তাদের সাথে উপরে নিচে সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সথে নাকি সম্পর্ক এমন কথা জনগন শুনে আসছে। ফলে নির্ভিগ্নে সেখানে  ইচ্ছে মতো পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে।  সংবাদ মাধ্যমে চট্টগ্রামের এই সব পাহাড়  নিয়ে বহু বার প্রতিবেদন হয়েছে।  কয়েক দিন প্রশাসন  নড়ে চড়ে বসলেও আবার সেই  পুরোনো অবস্থা দেখা যায়। চট্টগ্রামে  প্রতি মাসে শত শত পাকা দালান তৈরি হচ্ছে। জমির অবস্থান কমছে। ফসলের উৎপাদন  হ্রাস পাচ্ছে।  কল কারখানা বাড়ছে।  মিলের ধোঁয়া বাতাসে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সেই তুলনায় প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার উদ্দোগ নেই বলা চলে। কোনো ভাবেই খালি জমি রাখা যাবেনা। যার যার অবস্থান থেকে গাছ লাগাই। সন্মিলিত ভাবে বৃক্ষের সংরক্ষণ ও চর্চা করি। কোনো জনপ্রতিনিধি যেনো বৃক্ষ নিধন করতে না পারে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কে  নজর রাখতে হবে।

মানব সমাজের রক্ষার জন্য  আমাদের চার পাশের পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই। গাছ কাটা, পুকুর নদী ভরাট করতে দেয়া যাবেনা। চট্টগ্রামের কর্নফুলী নদীর আশ পাশসহ সরকারি নদী পাহাড় উদ্ধার করতে হবে। এইসব নদী পাহাড়ের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। নগরবাসির বাসাবাড়ির  উচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলা নিয়š্রÍন করতে হবে। এই সব নদী খাল ভরাট করে গড়ে উঠা  দোকান, ঘর,মার্কেট উচ্ছেদ করতে হবে।  এই সব সরকারি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা  এলাকায় বিদ্যুৎ  পানির লাইন কিভাবে পায়, সেখানেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

যার যার অবস্থান থেকে গাছ লাগাই। ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গা গাছ লাগিয়ে  পরিবেশ বাঁচাই নিজে বাঁচি। স্কুল মাদ্রাসা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্টানে গাছ লাগানোর ও পরিবেশ রক্ষার উপর গুরুত্ব বহন করে প্রেকটিকেল ভাবে ছাত্রদের  মানসিক ভাবে শিক্ষা প্রদান করি। প্রধানমন্ত্রির ২৫ কোটি চারা রোপণের অভিজান সফল ও বাস্তবায়ন হোক।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাস্তবায়নের জন্য যে কয়টি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো-পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ। ভৌগোলিক অবস্থান, অতি-ঘনবসতি এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রতিবছর তীব্র তাপপ্রবাহ, ঋতুচক্রের পরিবর্তন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত আমাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার বৈজ্ঞানিক উপায় হিসেবে চিহ্নিত। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে অতীতের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক, পরিবেশ-উপযোগী ও টেকসই পদ্ধতি অনুসরণ করা সময়ের দাবি।

দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বলা হলেও পরিবেশবিদ ও স্বাধীন বৈজ্ঞানিক সংস্থাসমূহের মতে, প্রকৃত ‘ক্যানোপি কাভার’ বা ঘন বনাঞ্চলের পরিমাণ ১০ থেকে ১২ শতাংশের বেশি নয়। বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের দায় মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ হলেও বিগত দুই দশকে দেশে গড় তাপমাত্রা প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের লাল তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী এবং কয়েক ডজন দেশীয় উদ্ভিদ প্রজাতি গত এক শতাব্দীতে চিরতরে বিলুপ্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।


অতীতের অভিজ্ঞতা: দেশীয় ও বৈশ্বিক শিক্ষা

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নে সামাজিক বনায়নের নামে দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি প্রজাতি যেমন-ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি ও রেইনট্রি ব্যাপকভাবে রোপণ করা হয়। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে প্রমাণিত, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে এর তাৎক্ষণিক সুফল ব্যাপক হলেও, দীর্ঘ মেয়াদে এই বনায়ন বিপুল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির সংকট (দেশের বরেন্দ্র অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নামিয়ে দিয়েছে) এবং পাখি ও বন্য প্রাণীর খাদ্যসংকট (স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করেছে) এর মধ্যে অন্যতম।

ইতিহাস বলে, ২০১৯ সালে তুরস্ক এক দিনে ১ কোটি ১০ লাখ চারা রোপণ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বৈজ্ঞানিক মাটি পরীক্ষা না করে শুষ্ক মৌসুমে রোপণের কারণে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ৯০ শতাংশ চারাই পানির অভাবে মারা যায়।

সাহারা মরুভূমির সম্প্রসারণ রোধে আফ্রিকার ১১টি দেশ মিলে ৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বনাঞ্চল তৈরির মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। প্রথম দিকে শুধু গাছ লাগানোর ওপর জোর দেওয়ায় চারা বেঁচে থাকার হার কম ছিল। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় আদিবাসী ও সুনির্দিষ্ট ‘বাস্তুতান্ত্রিক জোন’ অনুযায়ী প্রজাতি নির্বাচন করায় প্রকল্পটি এখন সফলতার মুখ দেখছে।


দেশে প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে বৃক্ষ রোপণ একটি প্রধান নিয়ামক হলেও বিপর্যয় ঠেকাতে যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগকে সফল করতে প্রথাগত কৃত্রিম চারা রোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি একটি যুগান্তকারী ও পরিবেশবিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি যুক্ত করা প্রয়োজন। পরিবেশবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অ্যাসিস্টেড ন্যাচারাল রিজেনারেশন (এএনআর) বা ‘সহায়ক প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন’।


কৃত্রিমভাবে নার্সারিতে চারা তৈরি করে, তা পরিবহন করে মাটিতে রোপণ করার প্রক্রিয়ায় বিপুল ব্যয় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়, অথচ প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই চারার বেঁচে থাকার হার অনেক সময় আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর বিকল্প বা সহযোগী হিসেবে এএনআর পদ্ধতি কোনো কৃত্রিম রোপণ ছাড়াই প্রকৃতির নিজস্ব পুনরুৎপাদন ক্ষমতাকে কাজে লাগায়। মাটিতে সুপ্ত থাকা কোটি কোটি বীজ, গাছের গোড়া এবং বুনো চারাগাছকে মানুষের তৈরি নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত করে প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বন গড়ে তোলাই এই পদ্ধতির লক্ষ্য।

বাস্তুবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী, কৃত্রিম বনের চেয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বন অনেক বেশি টেকসই ও শক্তিশালী। এর বৈজ্ঞানিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

দৃঢ় মূলতন্ত্র: প্রধান মূল মাটির গভীরতম স্তরে প্রবেশ করে তীব্র ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও খরার বিরুদ্ধে বহুগুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।


অনন্য জীববৈচিত্র্য: স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী শত শত প্রজাতির দেশীয় উদ্ভিদ, লতাগুল্ম, পরজীবী ও ছত্রাক একযোগে বৃদ্ধি পায়, যা বন্য প্রাণীর আদর্শ আবাসস্থল তৈরি করে।

পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে স্থলজ বনায়ন যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের জলবায়ু সুরক্ষায় নদী, হাওর, বিল ও উপকূলীয় জলাভূমির জলজ উদ্ভিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবিজ্ঞানের ভাষায় জলাভূমির এই উদ্ভিদভিত্তিক বনায়নকে ব্লু-কার্বন নেটওয়ার্ক বলা হয়। মিঠাপানির জলাভূমিগুলোতে হিজল, করচ, বরুণ, পিঠালি ও ঢোলকলমির মতো জলসহিষ্ণু উদ্ভিদ প্রজাতি প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্ষায় মাসের পর মাস পানির নিচে ডুবে থেকেও এগুলো বেঁচে থাকে। এই গাছগুলো হাওরাঞ্চলের তীব্র ঢেউ থেকে গ্রামীণ জনপদকে রক্ষা করে এবং মাটির ক্ষয়রোধ করে। শাপলা, পদ্ম, কলমি এবং বিভিন্ন দেশীয় ভাসমান ও নিমজ্জিত জলজ উদ্ভিদ পানির পুষ্টি উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলো পানির অতিরিক্ত কার্বন ও ভারী ধাতু শোষণ করে প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবন ও উপকূলের চরাঞ্চলের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ-কেওড়া, বাইন, গেওয়া, গোলপাতা স্থলভাগের উদ্ভিদের চেয়ে প্রায় ৪ থেকে ১০ গুণ বেশি কার্বন মাটির নিচে জমা রাখতে পারে। এই জলজ-উপকূলীয় বনাঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তীব্র সাইক্লোন প্রতিরোধী প্রাচীর হিসেবে কাজ করে।

বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়। প্রাণী ছাড়া উদ্ভিদের এবং উদ্ভিদ ছাড়া প্রাণীর বংশবৃদ্ধি অসম্ভব। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ সপুষ্পক উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির জন্য কীটপতঙ্গের প্রয়োজন হয়। বুনো মৌমাছি, প্রজাপতি, ভোমরা এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছি না থাকলে বনের ফলদ ও বনজ গাছের পরাগায়ন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। কীটপতঙ্গের এই বৈচিত্র্য ধ্বংস হলে বন প্রাকৃতিকভাবে নতুন চারা গজানোর ক্ষমতা হারায়। বনের বড় বড় দেশীয় গাছ, যেমন বট, গর্জন, চাপালিশ, আমলকী ও বহেড়ার বীজ ছড়ানোর মূল কারিগর হলো বনের প্রাণীকুল। ফলখেকো পাখি (যেমন ধনেশ, হরিয়াল) ও বাদুড় ফল খেয়ে দূরদূরান্তে মলত্যাগের মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে দেয়। বাদুড়ের পাকস্থলীতে বীজের যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তা বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। বানর, হনুমান, মেছোবিড়াল, হরিণ ও বন্য শূকর বনের ফল খেয়ে বীজ মাটিতে ফেলে দেয় বা মলমূত্রের মাধ্যমে মাটিতে মেশায়। হাতির মতো বড় প্রাণী বনের গহিন অঞ্চলে মাইলের পর মাইল হেঁটে বীজ বিস্তারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বাংলাদেশের বনগুলো থেকে শিয়াল, উদবিড়াল, শকুন, বনরুই এবং নানা প্রজাতির বুনো বিড়াল হারিয়ে যাচ্ছে। মৃত পশুর মাংস খেয়ে শকুন বনকে অ্যানথ্রাক্স বা রেবিসের মতো মারাত্মক মহামারি থেকে রক্ষা করে। বনের মাটিকে আলগা করা এবং ঝরা পাতাকে জৈব সারে (হিউমাস) রূপান্তরের কাজটি করে কেঁচো ও উইপোকা। এগুলো মাটির নাইট্রোজেন চক্র সচল রাখে, যা এএনআর পদ্ধতিতে নতুন চারা গজানোর প্রধান শর্ত।

বনের বাস্তুতন্ত্র কতটা সুস্থ, তা নির্ভর করে তার খাদ্যশৃঙ্খলের পূর্ণতার ওপর। গত এক শতাব্দীতে চিরতরে হারিয়ে গেছে ডোরাকাটা বাঘের প্রধান চারণভূমি (যেমন মধুপুর বা চিলমারী অঞ্চল), ক্যাস্পিয়ান বাঘ, জাভান গন্ডার, এশীয় মহিষ, ভারতীয় গন্ডার প্রভৃতি। বনে যখন তৃণভোজী বড় প্রাণী (যেমন বনগরু বা হরিণ) এবং শীর্ষ শিকারি (যেমন বাঘ বা চিতাবাঘ) থাকে না, তখন বনের উদ্ভিদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। বনগরু বা হরিণের মতো তৃণভোজী প্রাণীরা বনের অতিরিক্ত ঘাস ও লতাগুল্ম খেয়ে ছোট চারাগাছগুলোর জন্য সূর্যের আলো পাওয়ার পথ সুগম করে। আবার এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাঘ বা চিতাবাঘের মতো শীর্ষ শিকারির উপস্থিতি অপরিহার্য। প্রাকৃতিক বনায়ন মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের উপযুক্ত বনে (যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম বা সিলেটে) গয়াল, সাম্বার হরিণ এবং মায়া হরিণের মতো বিলুপ্তপ্রায় তৃণভোজী প্রাণী আবারও অবমুক্ত করা যায়। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বাইরে দেশের অন্যান্য মিশ্র চিরহরিৎ বনে ছোট চিতাবাঘ এবং লার্জার ক্যাটের সুরক্ষায় বিশেষ জোন তৈরি করতে হবে। খাদ্যশৃঙ্খল পূর্ণতা পেলে বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক ভারসাম্য তৈরি হবে, যা বনের প্রাকৃতিক বৃদ্ধিকে স্থায়ী রূপ দেবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশাল অর্থ ব্যয় করে কৃত্রিম বনায়ন করার চেয়ে এএনআর পদ্ধতি ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণকে একীভূত করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের ডানাউ মডেল, নাইজারের কৃষক-পরিচালিত প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন, কোস্টারিকার চারণভূমি পুনরুদ্ধার ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বনের কার্বন ধারণ ক্ষমতাকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা সম্ভব। যেমন কার্বন ট্রেডিং বা কার্বন ক্রেডিট (বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, উন্নত বিশ্বের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের নিঃসৃত কার্বনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের বনাঞ্চলকে অর্থ দেয়) ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে (জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল এবং বিশ্বব্যাংক বর্তমানে কৃত্রিম বনায়নের চেয়ে প্রাকৃতিক সমাধান-এনবিএস) বেশি অর্থায়ন করছে। 

আসুন, পরিবেশের  জন্য ক্ষতিকর মানুষ ও সিন্ডিকেট  চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসি। পরিবেশ বাঁচান, দেশ বাঁচান, সমাজ রক্ষা করুণ। সব ধরনের রাজনীতির  প্রেসার মুক্ত এই আইনের  বাস্তবায়ন থাকা চাই। জীবন সঙ্গী হিসেবে গাছ ও বাগানকে ভালো বাসতে শিখি। সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগাই পরিবেশ রক্ষা করি।

লেখক

মাহমুুদুল হক আনসারী

সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট ও 

চেয়ারম্যান: নিরাপদ বিশ্ব ফোরাম

Read More


রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর, সফলতার দেখা নেই I মাহমুদুল হক আনসারী





 কক্সবাজারের টেকনাফে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা অপহরণ, মানবপাচার, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে তারা এসব অপকর্মে জড়িত হচ্ছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। প্রত্যেকের হাতে রয়েছে দেশি-বিদেশি ভারী অস্ত্র। আর এসব রোহিঙ্গাদের বলি হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা।

 ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের ছোবল থেকে পালিয়ে আসে এসব রোহিঙ্গারা। আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফ এর বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে। রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে, তবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আতঙ্ক।

এরই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাকাত 'খালেক বাহিনী' ও ডাকাত 'নুর কামাল বাহিনী'র মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় নুর কামাল বাহিনীর প্রধান নুর কামাল গুলিতে নিহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে জানা যায়। এইসব ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভোর বেলায় টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাউছার সিকদার।

স্থানীয়রা জানান, ক্যাম্পে আধিপত্য বজায় রাখতে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সা¤প্রতিক সময়ে একের পর এক গুলির শব্দে পুরো ক্যাম্প কেঁপে উঠছে। ফলে স্থাণীয় জনগন চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। সংবাদে জানা যায়, এরা সবাই অপহরণ, ইয়াবা, মানবপাচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। এ ছাড়া এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের কাছে দেশি-বিদেশী অসংখ্য ভারী অস্ত্র আছে বলে বিভিন্ন সূত্র মাধ্যম বলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধের মূলে আড়াইশ'র অধিক মামলা হয়েছে। খুনের মামলা অন্তত ৩০টি, যার বিপরীতে হত্যাকান্ডের সংখ্যা অন্তত অর্ধশতাধিক। মাদক সম্পৃক্ত মামলা সবচেয়ে বেশি। যার সংখ্যা দেড় শতাধিকের বেশি। একই সঙ্গে অপহরণের ২৭ টি, ধর্ষণের ১৮টি মামলা রয়েছে।  

বিগত ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা (যার সংখ্যা বর্তমানে ১৮ লাখের বেশি) বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর গত ৮ বছরে সাড়ে তিন শতাধিক বিভিন্ন ঘটনায় তিনশ'র অধিক মামলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা মিয়ানমার থেকে আনা আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ভাবে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকা এখন দুই গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

ডিআইজি মো. কাউছার সিকদার বলেন, চলতি মাসে টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প এলাকায় ডাকাত খালেক বাহিনী ও ডাকাত নুর কামাল বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নুর কামাল বাহিনীর প্রধান নুর কামাল নিহত হয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই ডাকাতদলের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটে আসছে। নিহত নুর কামাল নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা যায়।

নিহত নুর কামালের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদক সংক্রান্তসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে বলে সূত্র থেকে জানা যায়। র‌্যাব ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, অপরাধ প্রবণতা এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দেশীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ মিলে অপহরণ, মানবপাচার ও খুনের মতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। বর্তমানে টেকনাফ কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রোহিঙ্গাদের কারণে জটিল হয়ে উঠছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসিদেরকে যেন অন্য কোনো সন্ত্রাসি গ্রæপ ব্যবহার করতে না পারে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনিকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 


রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গভীরতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের পর সমস্যাটি যে এতটা জটিল হয়ে উঠবে, তা অনেকের ভাবনায়ও ছিল না। উপরন্তু এর কিছুদিন পরই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়, যার ফলে মনে হয়েছিল দুই দেশের সমঝোতার মাধ্যমে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই বাস্তুচ্যুত  রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে এবং সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমরা এই সমঝোতার কোনো বাস্তবিক প্রয়োগ দেখতে পাইনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে তিনি ধর্ম ও গোত্রনির্বিশেষে মিয়ানমারে বসবাসরত সব বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের তত্ত¡াবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘নিরাপদ এলাকা’ তৈরির কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত সব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তা প্রদানের কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে তিনি টেকসই প্রত্যাবাসনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের রাখাইনে সফরের আয়োজন করার কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং এই সংকটের কারণ বিবেচনায় রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে বলেছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ দুবারই ব্যর্থ হয়। এর ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জনমনে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের শিবিরের মধ্যে বিশাল সমাবেশ নানা রকম প্রভাব তৈরি করেছে।


এদিকে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে নানা রকম আর্থসামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিবিরে রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা ও বঞ্চনা বেড়ে চলেছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৈষয়িক টানাপোড়েন ও মানসিক দূরত্ব বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে জনসংখ্যাগত যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে পারস্পরিক অসন্তোষ, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তা ছাড়া, রোহিঙ্গাদের নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা, বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করা, এমনকি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের তৎপরতায় তাদের লিপ্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসছে। তাদের কারণে বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দারা জন্মনিবন্ধন , ভোটার আইডি কার্ড পেতে হরহামেশা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষত বৃহত্তর চট্টগ্রামের নানা এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এটা স্থায়ী বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মারাত্মকভাবে হুমকির সৃষ্টি করেছে।  এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর একটি আবদ্ধ স্থানে কর্মহীন অবস্থায় বসবাস করার কারণে তাদের মধ্যে একধরনের হতাশাও লক্ষ করা যাচ্ছে। অধিকন্তু রোহিঙ্গাদের অবস্থান আরও দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।


এসব কারণে রোহিঙ্গা সমস্যাটি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রোহিঙ্গা সংকট: চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই সমাধান’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রসচিবসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৫০ জন গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সমস্যার নানা দিক নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করেন এবং এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সবাই এ ব্যাপারে একমত যে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এত বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণের ভার বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বহন করবে, তা প্রত্যাশা করা যায় না। এ বিষয়টি সামনে রেখেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন বিষয়ে কতগুলো ব্যবস্থার কথা সম্মেলনে বারবার বলা হয়। এগুলো হলো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পাঁচ দফার আলোকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খোঁজা; 


মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশনগুলোর প্রচার কার্যক্রম বেগবান করা; স্থায়ী, সফল এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নেওয়া; এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সংস্থা, যেমন সার্ক, আসিয়ান, বিমসটেক এবং ওআইসিকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে প্রভাবিত করা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিশ্চয়তা প্রদানকারীর ভূমিকা পালন নিশ্চিত করা। প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কিছু অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় আসে, যেমন ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার রোধ করা, ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে রোহিঙ্গাদের পস্তুত করা, সব রোহিঙ্গার জন্য আইডি কার্ডের বিধান করা এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা। রোহিঙ্গাদের এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করার কথাও এই সম্মেলনে আলোচিত হয়, যাতে করে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো ধরনের টানাপোড়েন তৈরি না হয়।

আবার এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কেননা, একদিকে মিয়ানমার মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও সনদগুলোকে ক্রমাগত অস্বীকার করে চলেছে; অন্যদিকে প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশনের বাস্তবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো তাদের ভূ-কৌশলের বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এদিকে মিয়ানমারের ক্রমাগত অসহযোগিতার কারণেও বাংলাদেশের একার পক্ষে এই সংকটের সমাধান বের করা সম্ভব নয়।

তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো নেওয়ার মাধ্যমে এই সংকটের একটি সমাধানের দিকে আমরা যেতে পারি: প্রথমত, মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈশ্বিক ঐকমত্য সৃষ্টির প্রয়াস চলমান রাখা। দ্বিতীয়ত, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রভাবশালী দেশগুলো যেন মিয়ানমারকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে, সে লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের জন্য আসিয়ান এবং ওআইসির উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ শুরু করার জন্য বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকায় কিংবা এসব দেশের রাজধানীগুলোতে ধারাবাহিক বৈঠক হতে পারে। চতুর্থত, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় সংলাপে, আলোচনা ও মতৈক্যের বিষয়গুলোতে রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবিদাওয়াকে (যেমন তাদের নৃতাত্তি¡ক পরিচয়ের স্বীকৃতি, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার, জমি ফিরে পাওয়া এবং প্রত্যাবাসনের পর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ইত্যাদি) গুরুত্ব দিতে হবে, যেন স্বেচ্ছা 

 প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। রোহিঙ্গাদের স্বসম্মানে নাগরিক  সব ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে মায়ানমারকে এসব নাগরিক গ্রহণ করতে বাধ্য করতে হবে। সবশেষে এ কথা বলা যায় যে ১৯৪৮ সালে স্বাক্ষরিত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র এবং ২০০৫ সালের ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ (জ২চ) বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তথা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তাদের বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করতে পারে না। সুতরাং জাতিসংঘকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের পর অন্ততপক্ষে প্রথম তিন বছর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রাখতে হবে। বাংলাদেশের সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে সর্বদায় তৎপর রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে বাস্তবিক ভূমিকা না রাখলে কখনো প্রত্যাবর্তন সমস্যা সফল হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে না। দেশের জনগণ দ্রæত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা নাগরিকদের মায়ানমারে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন চায়। তাদের যাবতীয় সন্ত্রাসি কর্মকান্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কোনো ভাবেই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসিগোষ্টি ক্যাম্পের বাহিরে যেন না ঢুকে যেতে পারে সেই তৎপরতা নজরদারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনিকে রাখতে হবে। 


লেখক

মাহমুুদুল হক আনসারী

সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট





ইসলামে শ্রমিকদের অধিকার: এক মানবিক আলোচনা


 📜

ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার ধর্ম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে ইসলাম যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা আজকের আধুনিক শ্রম আইনকেও অনেক সময় ছাড়িয়ে যায়।


🧑‍🏭 ১. শ্রমিকের মর্যাদা


ইসলামে পরিশ্রমকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। হাদিসে এসেছে:


"নিজ হাতে উপার্জন করা রুজি হলো সর্বোত্তম রুজি।"

—(মুসনাদে আহমদ)


একজন শ্রমিক তার ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করছে — এটি ইসলামে গৌরবের কাজ।


💰 ২. সময়মতো মজুরি প্রদান


প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:


"তোমরা মজুরকে তার ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দিয়ে দাও।"

—(ইবনু মাজাহ)


👉 এতে বোঝা যায়, শ্রমিকের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য সময়মতো দেওয়া ইসলামী ন্যায়বিচারের একটি অংশ।


⚖️ ৩. শোষণ বা জুলুম হারাম


কোনো শ্রমিকের হক মেরে নেওয়া ইসলামে চরম জুলুম। মহান আল্লাহ বলেন:


"তোমরা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না..."

—(সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)


শ্রমিককে কাজ করিয়ে তার মজুরি না দেওয়া বা অল্প দেওয়া একটি গুরুতর অন্যায়।


🤝 ৪. ন্যায্য পরিবেশ ও আচরণ


নবীজী (সা.) বলেছেন:


"তোমরা তাদের (শ্রমিকদের) ওপর এমন কাজের বোঝা দিও না, যা তারা সহ্য করতে পারে না। যদি দিতেই হও, তবে তাতে তোমরা নিজে সাহায্য করো।"

—(বুখারী ও মুসলিম)


👉 এটি প্রমাণ করে, কর্মস্থলে শ্রমিকদের সাথে সহনশীল, সদয় ও মানবিক আচরণ করা ইসলামী আদর্শ।


🕌 ৫. শ্রমিক ও মালিক — উভয়ই দায়িত্বশীল


ইসলামে শ্রমিক এবং মালিক — উভয় পক্ষের প্রতি কিছু দায়িত্ব আছে। যেমন:


শ্রমিক সৎভাবে কাজ করবেন।


মালিক ন্যায্য মজুরি দেবেন এবং অবিচার করবেন না।


✅ উপসংহার


🔸 ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠন করতে চায়, যেখানে শ্রমিক নিপীড়িত হবে না এবং মালিকও ঠকবে না।

🔸 আমাদের উচিত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা।

🔸 এটি শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং মানবিক ও সামাজিক ন্যায়ের দাবিও বটে।

তোমাদের জন্য বই


বইঃ মন্টু মামার বিয়ে
লেখকঃ মুহাম্মদ বরকত আলী
প্রকাশকঃ অনুপ্রাণন প্রকাশন
ধরনঃ রম্য ও কিশোর গল্পগ্রন্থ 
গল্প সংখ্যাঃ মোট ৮ টি
মলাট মূল্যঃ ২৫০/