বিজ্ঞাপন

৬ষ্ট বর্ষে শিশুকিশোর টুনটুনি! টুনটুনির সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা!

গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আফিয়াদের মোল্যা আম ও আমে পোকার রহস্য | সাঈদুর রহমান লিটন

 


আফিয়াদের বাড়িতে অনেক গুলো বড় বড় আম গাছ আছে । সব গাছেই আম ধরেছে। প্রায় সব গাছেই এখন আম পেকেছে। দেশাল আম। এ আমের বিশেষ কোন নাম নেই, যে নামে ডাকলে সারাদেশের মানুষ চিনবে। বাড়ির মানুষ চেনার জন্য  কিছু আম গাছের   নাম রাখা হয়েছে। যেমন গোলা আম, কাঁচা মিঠা আম, সিঁদুরে আম, টুইরে আম, টিয়ে বরণ আম, আরো বেশ কিছু এই জাতীয় নাম রাখা হয়েছে। নাম রাখার জন্য বিশেষত্ত্ব ও আছে, যেমন আমের ভিতর প্রচুর গোলা হয় তাই গোলা আম, কাঁচা থাকতেই মিষ্টি থাকে  তাই কাঁচা মিঠে আম, ছোট ছোট আম তাই টুইরে আম, আমের গায়ে সিঁদুরের মত লাল রঙ হয় তাই সিঁদুরে আম, আম পাকলেও সবুজ থাকে তাই টিয়ে বরণ আম। এই নাম গুলো রেখেছেন আফিয়ার দাদি। আম গাছ গুলো লাগিয়েছেন ও  তিনি। তিনি কোথাও গেলে যে আম খেয়ে ভালো লাগলেই সেই আমের  আঁঠি লাগিয়েছেন। তখন থেকেই নাম ও রেখেছেন। যেমন বাড়ির পশ্চিম পাশে একটা আম গাছ আছে মাঝারি সাইজের আম হয়।

দারুন সুস্বাদু সেই আমের নাম মোল্যা আম। আফিয়ার দাদি যখন নতুন বউ ছিলেন তখন একদিন মোল্যা বাড়ি গিয়েছিলেন। দাদিকে আম একটি আম খেতে দিয়েছিল মোল্যা বাড়ির লোকে। আমটি দেখতে খুব সুন্দর ছিলো, তাই না খেয়ে বাড়ি এনে খেয়েছেন। এবং সুস্বাদুতে মুগ্ধ হয়ে সেই আমের আঁঠি লাগিয়েছেন। তাই এই আমের নাম মোল্যা আম। যেহেতু মোল্যা বাড়ি থেকে আম এসেছে তাই। এই মোল্যা আমের গাছে প্রচুর আম ধরেছে এবার । আম গাছে পেকেছেও। গাছটা ও অনেক বড়। ইচ্ছে করলেও গাছ থেকে আম পাড়া যায় না। কারন এত বড় গাছে চড়া খুব দু:সাধ্য।


আম গাছে হলুদ হয়ে পেকে থাকে। পাখিরা গাছে এসে বসলেই আম টুস করে পড়ে। অথবা সামান্য বাতাস এলেই পড়ে। তাই গাছ তলায় সব সময় লোকজনের ভিড় থাকে। গাছটি আফিয়াদের ঘরের পিছনে হওয়ায়  মোল্যা আম সহজে আফিয়ারা কুড়াতে পারে না। বেশির ভাগ বাইরের মানুষই কুড়িয়ে নিয়ে যায়। ইদানিং প্রতিদিনই ঝড় বাতাস হচ্ছে। গাছ তলা কখনো ফাঁকা থাকে না। শিশু, বঊ, কিশোর কিশোরী, বুড়ো, বুড়ি সবাই গাছের নিচেই থাকে। আম পড়লেই যুদ্ধ লেগে যায়। দুর্বল প্রকৃতির মানুষদের আম কুড়িয়ে নেওয়া সম্ভব না। 


আম সব সময় টুসটাস পড়তেই থাকে। একদিন আফিয়ার আব্বু সবাইকে ধমক দিল আম কুড়ানোর জন্য। আর বলল আমরা তো একটা আম ও খেতে পারলাম না। অন্তত আমাদের জন্য দুই একটা আম পাওয়ার জন্য সময় দাও। আফিয়ার আব্বুর অগ্নিমূর্তি দেখে সবাই ভয় পেয়ে আর কেউ আম কুড়াতে আসে না।  গাছের নিচে প্রচুর আম পড়ে থাকে। আফিয়ারা কিছু আম কুড়ায়। ভালো করে খেতে পারে না। কারন আমে হঠাৎ করে পোকা ধরেছে। মোল্যা আমে এমন পোকা কখনো ধরে নাই। 


আফিয়ার দাদি বলল, এই এত বছর আম গাছের বয়স আমি কখনো আম কুড়াতে নিষেধ করি নাই।


যেই আম কুড়ানোর নিষেধ করা হয়েছে আমে পোকা ধরেছে। আল্লাহ নারাজ হয়ে পোকা দিয়েছে আমে। 


আফিয়ার দাদি আফিয়ার আব্বুকে বলল, আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে আবার সবাইকে আম কুড়ানোর কথা বলে দাও। আফিয়ার আব্বু সবাইকে আবার আম কুড়ানোর জন্য বলল। সবাই মনের আনন্দে আবার আম কুড়াতে লাগলো।


Next Page


পরিবেশ বাঁচান | আঞ্জুমান আরা।



 রাজু ক্লাশ সেভেনে পড়ে। স্কুল থেকে ফিরে এসে তাড়াতাড়ি করে দু'টো খেয়ে নেয়। তার পর আর পায় কে?সোজা মাঠে। বন্ধুদের কাউকে ডাকতে হয় না। খেলার মাঠে একত্রিত হওয়ার সময় সম্পর্ক সচেতন করার কোনো দরকার নেই। কারণ কিশোর বয়সে এই একটি ব্যাপারে সচেতনতা খোদার অসীম দান। 



চৈত্রের শেষে বিকেল বেলা যখন বৃষ্টি নামলো রাজু ও তার বন্ধুরা তখন মাঠে খেলছিলো। হঠাৎ দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো। নিমিষেই জীবন বাঁচাতে কে কেথায় উধাও হয়ে গেল, তার হিসেব রাখার জন্য মাঠে অবশিষ্ট আর কেউ ছিলোনা।

 ক্লান্ত দেহে বই পড়ার টেবিলে প্রতি দিনই ঝিমায় রাজু। মায়ের বকুনি খেতে খেতে পেটে পরে রোজকার রাতের খাবার। ওদিকে বৃষ্টিতে আজকের আবহাওয়ার খবর হলেই কাঁথা কম্বল জড়িয়ে আরামে ঘুমিয়ে পারো। তাই হলো।

 পরের দিন স্কুল থেকে ফিরে মাঠে খেলতে গেলো রাজু ও তার বন্ধুরা। মাঠে গিয়ে রাজু দেখতে পেলো অন্য পাড়ার কতগুলো দুষ্টু ছেলে ওদের মাঠে এসে ভীর করে আনন্দে মেতে উঠেছে। অথচ মাঠে জমে আছে প্রচুর পরিমানে পানি। ছেলেগুলো মাঠের দিকে শুধু ঢিল ছুঁড়ছে। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে গিয়ে রাজু দেখলো অসংখ্য ব্যাঙ গাল ফুলাচ্ছে আর ঘ্যঙোর ঘ্যাঙ করে ডাকছে।

  রাজু চেখ ছানাবড়া। ক্ষণিকের জন্য রাজু চমকে গেলো এই ভেবে, এতো ব্যাঙ কোথা থেকে আসলো ? আর ওরা লুকিয়ে ছিলোই বা কোথায়? কিন্তু দুষ্টু ছেলেগুলোর দুষ্টামি দেখে রাজুর মনটা ব্যথিত হলো। সে বইয়ে পড়েছে সকল জীবের প্রাণ আছে ও তাদের অনুভূতি আছে। আরো আছে বাঁচার অধিকার। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টিকর্তা মানুষেকে অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু দুষ্টু ছেলের দল ওদের কত নির্মম ভাবে মারছে। ওর মনে হলো ব্যাঙগুলো ওর কাছে বাঁচার আকুতি করছে। রাজু তার বন্ধুদের একপাশে ডেকে নিয়ে আসলো এবং গোল হয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,

 -ওরা যে ব্যাঙ গুলোকে মারছে তাতে তোদের কষ্ট লাগেনা ?  

পল্টু ও রকেট ঠোঁট দু'টো উল্টো করে বললো,

-নাহ!

মন খারাপ করে সিয়াম বললো,আমিও তোকে এই কথাটা বলতে চেয়েছিলাম রাজু।তাহলে চল ওদের বাঁচাই।

তারা সবাই মিলো দুষ্টু ছেলেগুলোকে তাড়িয়ে দিলো আর বেঁচে গেল কতগুলো প্রাণ।

সব কথা শোনার পর  মা আর কোনো দিন রাজুকে বকা দেননি।

 সিয়াম ইঞ্জিনিয়ার হলেও রাজু এখন প্রাণীবিদ্যার উপর ডিগ্রী লাভ করেছে। আর সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। 

অকারণে প্রাণী হত্যা বন্ধ  করুন,পরিবেশ বাঁচান।