আফিয়াদের বাড়িতে অনেক গুলো বড় বড় আম গাছ আছে । সব গাছেই আম ধরেছে। প্রায় সব গাছেই এখন আম পেকেছে। দেশাল আম। এ আমের বিশেষ কোন নাম নেই, যে নামে ডাকলে সারাদেশের মানুষ চিনবে। বাড়ির মানুষ চেনার জন্য কিছু আম গাছের নাম রাখা হয়েছে। যেমন গোলা আম, কাঁচা মিঠা আম, সিঁদুরে আম, টুইরে আম, টিয়ে বরণ আম, আরো বেশ কিছু এই জাতীয় নাম রাখা হয়েছে। নাম রাখার জন্য বিশেষত্ত্ব ও আছে, যেমন আমের ভিতর প্রচুর গোলা হয় তাই গোলা আম, কাঁচা থাকতেই মিষ্টি থাকে তাই কাঁচা মিঠে আম, ছোট ছোট আম তাই টুইরে আম, আমের গায়ে সিঁদুরের মত লাল রঙ হয় তাই সিঁদুরে আম, আম পাকলেও সবুজ থাকে তাই টিয়ে বরণ আম। এই নাম গুলো রেখেছেন আফিয়ার দাদি। আম গাছ গুলো লাগিয়েছেন ও তিনি। তিনি কোথাও গেলে যে আম খেয়ে ভালো লাগলেই সেই আমের আঁঠি লাগিয়েছেন। তখন থেকেই নাম ও রেখেছেন। যেমন বাড়ির পশ্চিম পাশে একটা আম গাছ আছে মাঝারি সাইজের আম হয়।
দারুন সুস্বাদু সেই আমের নাম মোল্যা আম। আফিয়ার দাদি যখন নতুন বউ ছিলেন তখন একদিন মোল্যা বাড়ি গিয়েছিলেন। দাদিকে আম একটি আম খেতে দিয়েছিল মোল্যা বাড়ির লোকে। আমটি দেখতে খুব সুন্দর ছিলো, তাই না খেয়ে বাড়ি এনে খেয়েছেন। এবং সুস্বাদুতে মুগ্ধ হয়ে সেই আমের আঁঠি লাগিয়েছেন। তাই এই আমের নাম মোল্যা আম। যেহেতু মোল্যা বাড়ি থেকে আম এসেছে তাই। এই মোল্যা আমের গাছে প্রচুর আম ধরেছে এবার । আম গাছে পেকেছেও। গাছটা ও অনেক বড়। ইচ্ছে করলেও গাছ থেকে আম পাড়া যায় না। কারন এত বড় গাছে চড়া খুব দু:সাধ্য।আম গাছে হলুদ হয়ে পেকে থাকে। পাখিরা গাছে এসে বসলেই আম টুস করে পড়ে। অথবা সামান্য বাতাস এলেই পড়ে। তাই গাছ তলায় সব সময় লোকজনের ভিড় থাকে। গাছটি আফিয়াদের ঘরের পিছনে হওয়ায় মোল্যা আম সহজে আফিয়ারা কুড়াতে পারে না। বেশির ভাগ বাইরের মানুষই কুড়িয়ে নিয়ে যায়। ইদানিং প্রতিদিনই ঝড় বাতাস হচ্ছে। গাছ তলা কখনো ফাঁকা থাকে না। শিশু, বঊ, কিশোর কিশোরী, বুড়ো, বুড়ি সবাই গাছের নিচেই থাকে। আম পড়লেই যুদ্ধ লেগে যায়। দুর্বল প্রকৃতির মানুষদের আম কুড়িয়ে নেওয়া সম্ভব না।
আম সব সময় টুসটাস পড়তেই থাকে। একদিন আফিয়ার আব্বু সবাইকে ধমক দিল আম কুড়ানোর জন্য। আর বলল আমরা তো একটা আম ও খেতে পারলাম না। অন্তত আমাদের জন্য দুই একটা আম পাওয়ার জন্য সময় দাও। আফিয়ার আব্বুর অগ্নিমূর্তি দেখে সবাই ভয় পেয়ে আর কেউ আম কুড়াতে আসে না। গাছের নিচে প্রচুর আম পড়ে থাকে। আফিয়ারা কিছু আম কুড়ায়। ভালো করে খেতে পারে না। কারন আমে হঠাৎ করে পোকা ধরেছে। মোল্যা আমে এমন পোকা কখনো ধরে নাই।
আফিয়ার দাদি বলল, এই এত বছর আম গাছের বয়স আমি কখনো আম কুড়াতে নিষেধ করি নাই।
যেই আম কুড়ানোর নিষেধ করা হয়েছে আমে পোকা ধরেছে। আল্লাহ নারাজ হয়ে পোকা দিয়েছে আমে।
আফিয়ার দাদি আফিয়ার আব্বুকে বলল, আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে আবার সবাইকে আম কুড়ানোর কথা বলে দাও। আফিয়ার আব্বু সবাইকে আবার আম কুড়ানোর জন্য বলল। সবাই মনের আনন্দে আবার আম কুড়াতে লাগলো।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন