বিজ্ঞাপন
ঈদ আনন্দ একাল সেকাল | মাহমুদুল হক আনসারী
বুক রিভিউ- মায়াবনের রাজকন্যা
🐌🐌
❝মায়াবনের রাজকন্যা❞
বইয়ের নামঃ “মায়াবনের রাজকন্যা”
লেখকঃ ইউনুস আহমেদ
প্রকাশকঃ লিখিয়ে প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ২০২২ খ্রীস্টাব্দ
ধরনঃ শিশুতোষ রুপকথার গল্প
প্রচ্ছদঃ নিসা মেহজাবিন
অলংকরণঃ প্রীতিলতা চক্রবর্তী
মূল্যঃ১৮০/-
বই আলোচনাঃ জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ও কল্পবিজ্ঞান লেখক ইউনুস আহমেদ এর “লিখিয়ে পান্ডুলিপি পুরস্কার-২০২২” প্রাপ্ত বই
❝মায়াবনের রাজকন্যা❞। বইটি মূলত শিশুতোষ রুপকথার গল্পের বই। বইটিতে মোট ৭ টি গল্প আছে।
🦢🦢প্রথম গল্প- আকাশপাখি ও রাজকন্যা নীলাম্বরী।
🐎মেঘরাজ্যের রাজকন্যা নীলাম্বরী গল্পের মুল চরিত্র। রাজকন্যা নীলাম্বরী বড়ই দয়ালু। কিন্তু সে সারাদিন রাজপ্রাসাদে বন্দী থাকে। তার খুব শখ পৃথিবী দেখার। কিন্তু মেঘরাজ্যে প্রায়শ এক কালো দৈত্যের আক্রমণ হয় সেজন্য রাজকন্যার নিরাপত্তার জন্যই তাকে প্রাসাদে থাকতে হয়। একদিন আকাশরাজ্যের আকাশ পাখির সাথে তার দেখা হয়। তার সাহায্যে সে পৃথিবী, মেঘরাজ্য ও আকাশরাজ্য ঘুরে দেখে। পৃথিবীতে গিয়ে শিশুদের সাহায্য করে। এভাবে গল্পটি শেষ হয়। এ গল্পের মুল বিষয় পরোপকার যেটা শিশুদের উপযোগী করে সুন্দর করে পরিবেশন করেছেন লেখক। গল্পটা ছোট্ট কিন্তু গোছানো।
🦢🦢দ্বিতীয় গল্প-ইচ্ছেপরীর গল্প
🐎এখানে মূল চরিত্র ইচ্ছেপরী। ইচ্ছেপরী মানুষের ইচ্ছে পুরন করে আর ফুল ফোঁটায়। কিন্তু পরীরানীর ভয়ানক শাস্তির ভয়ে কেউ রাজ্যের বাইরে যেতে পারেনা। অথচ ইচ্ছেপরীর অনেক ইচ্ছে পৃথিবী দেখার। কিন্তু ভয়ে সেটা করা হয় না। একদিন পরীদের নাচের অনুষ্ঠানের সময় সুযোগ নিলো ইচ্ছেপরী। চুপ করে পৃথিবীতে আসলো। ফুল্লরা নামের একটি মেয়ের ইচ্ছেপুরন করে সে। বাগানের ফুল ফোঁটায় গান গেয়ে নেচে নেচে। তারপর ফুল্লরার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পরীরাজ্যে পৌছে প্রহরীর হাতে ধরা পরে। পরীরানী কঠিন শাস্তি হিসেবে রাজ্য থেকে চিরদিনের জন্য বের করে দেন। তারপর থেকে ইচ্ছেপরী পৃথিবীতে বাস করে আর শিশুদের ইচ্ছেপুরন করে। যেনো কল্পনায় শিশুদের একটুখানি ভরসার জায়গা। যদিও বাস্তব পৃথিবীতে সত্যিকার ইচ্ছেপরীর খুব দরকার কোমলমতি শিশুদের ইচ্ছে বা দুঃখ লাঘব এ। এটাই এ গল্পের শিক্ষা।
🦢🦢তৃতীয় গল্প-“জেলেকন্যা ও মৎস্যকুমার”
🐎এ গল্পের মুল চরিত্র জেলেকন্যা অ্যালিনা। যার বাবা একজন জেলে এবং সমুদ্রে জাহাজে করে মৎস শিকার করে। অ্যালিনা প্রতিদিন বাবার পথপানে চেয়ে থাকে। সে সমুদ্রের ধারে একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে থাকে। তারপর গান ধরে। তার মিষ্টি সুরেলা গান শুনে সামুদ্রিক পাখিরাও চলে আসে। একদিন অ্যালিনা খেয়াল করে কিছু একটা সমুদ্রের তলা থেকে উপরে ভেসে আসে। দেখতে কিছুটা মানুষ আবার পা পর্যন্ত মাছের মতো। অ্যালিনাকে দেখে ভয়ে ডুপ দেয়। আরেকদিনের কথা। জেলেকন্যা আবারও সুরেলা গলায় গান ধরে। তার গান শুনে সমুদ্র থেকে সেই অদ্ভুত প্রাণীটা সত্যিই তারকাছে চলে আসে। আসলে সে একটা জলমানব মানে মৎস্যকুমার। মৎস্যকুমার আর জেলেকন্যার বন্ধুত্ব হয়। তারপর সে তাকে তার মৎস্য রাজ্যে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে এবং একটি মনিমুক্তার বাক্স উপহার দেয়। জেলেকন্যা তার বাবাকে সব বলে। কিন্তু জেলে ছিলো একটা লোভী। তাই সে সব হিরে জহরত একসাথে পাওয়ার লোভে মৎস্যকুমারকে জালে আটকানোর ফন্দি আঁটে। সে অন্যান্য জেলেদের সাথে পরামর্শ করে মৎসকুমারকে ধরতে গেলে মৎস্য কুমার সব বুঝতে পরে এবং জলের নিচে ডুব দিয়ে চলে যায়। আর কখনো ডাঙায় আসেনা। সেদিন থেকে জেলেকন্যা একা হয়ে যায়।
🦢🦢 চতুর্থ গল্প “মায়াবনের রাজকন্যা”
🐎 এ গল্পটি মুলত বইটির নামলিপি। মায়াবন নামে এক সুন্দর রাজ্য ছিলো। কিন্তু হঠাৎ সে রাজ্যে রাক্ষসীর আক্রমণ হয়। রাক্ষসীরা মায়াবনের রাজকুমার ও তার গোটা রাজ্যের লোকজনকে পাথর করে রাখে। শুধু পশুপাখি ও গাছপালা ছাড়া। গোটা মায়াবনে চলে রাক্ষসীদের তান্ডব ও অন্যায় রাজত্ব। পাশের দেশের রাজকন্যা লীলাবতী ঘুরতে আসে মায়াবনে। সে পশুপাখিদের কাছে জানতে পারে এটা শুধু বন নয় বরং একটা রাজ্য। তারা সব ঘটনা খুলে বলে রাজকন্যাকে। অবশেষে পশুপাখিদের সাহায্য নিয়ে রাজকন্যা রাক্ষসীদের প্রান নেয়ার জন্য তাদের এক কুৎসিত পাখি যার মধ্যে সব রাক্ষসীর প্রান রয়েছে সেটাকে খুঁজে বের করে। তারপর রাজকুমার হীরনকুমার কে খাঁচা থেকে মুক্ত করলে রাজকুমার সেই কুৎসিত পাখকে ধরে আকাশে উড়িয়ে দেয়। সাথে সাথে সব যাদু শক্তি নষ্ট হয়ে রাজ্য স্বাভাবিক হয় এবং রাক্ষসীরা বধ হয়। রাজা-রানি খুব খুশি হয়। তাীা রাজকন্যা লীলাবতীর সঙ্গে রাজপুত্র হীরনকুমারকে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠায় রাজকন্যা লীলাবতীর মা-বাবাকে। অবশেষে মহা ধুমধাম এ তাদের বিয়ে হয়। তারপর থেকে রাজকন্যা লীলাবতী মায়াবনে বাস করতে থাকে।
🦢🦢 এর পর রয়েছে ৩ টি গল্প। এগুলো হলো
১/ রাক্ষসের বন
২/রুনকি ও নীলপরি
৩/ এক যে ছিলো রাজকন্যা
এই বাকি তিনটি গল্পও আগের গল্পগুলোর মতই কাহিনি এবং চরিত্র দিয়ে পরিপূর্ণ । এগুলোতেও শিশুদের উপযোগী কল্পনারাজ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন লেখক। যেহেতু এই তিনটি গল্প বাকি গল্পগুলোর মতই তাই এগুলো আর আলাদাভাবে আলোচনা করলাম না।
পরিশেষে বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি ও সংগ্রহে রাখতে অনুরোধ করছি । লেখকের জন্য শুভকামনা।
শাহিন স্বপনের একগুচ্ছ ছড়া
১/ঘুড়ি
নিরাপদ প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের করণীয় | মাহমুদুল হক আনসারী
শতভাগ শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করা সমাজের অন্যতম দায়িত্ব। সমাজকে এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুরা আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ, আগামীর ভবিষৎ। তাদের উজ্জ্বল ভবিষৎ গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের নিচে সকল বালক সন্তানকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করেছে। শিশুর জন্য চাই সুন্দর আগামী। এর জন্য প্রয়োজন নিরাপদ সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ। এসব বাস্তবায়নে শিশু অধিকার সনদ ও শিশুর সুরক্ষা গুরুত্ব দেয়া উচিত। একটি শিশুকে মানব প্রগতির অনিবার্য অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে যেসব সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা দরকার তার সবকিছুই শিশু অধিকার সনদে বিদ্যমান। শিশুদের অংশগ্রহণের অধিকার এবং শিশুর সুরক্ষার অধিকার সবকিছু সমাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর সামাজিক, পারিবারিক বিদ্যালয়ের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে তার কথা বলতে নির্ভয়ে সুযোগ করে দিতে হবে। ঘরে বাইরে এ সুযোগ থাকা চায়। তাই শিশুর মনন বিকাশে অংশগ্রহণের অধিকার প্রাথমিক স্তর হচ্ছে পরিবার ও বিদ্যালয়। পরিবার ও শিক্ষাকেন্দ্রে নির্ভয়ে তাদের মতামত প্রদান করার অধিকার শিশুদের থাকতে হবে। শিশুদেরকে শিশু সংগঠন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একইভাবে সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় শিশুকে স্বাধীন মতামত বা চিন্তা প্রকাশ করতে দিতে হবে। বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হওয়া ও নিজস্ব ভাষা ধর্মচচার্র স্বাধীনতা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ধমর্ীয় আচার অনুষ্টান ও নৈতিক চরিত্র চচার্র সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুদের অবাধ তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তাও দিতে হবে। বিদ্যালয়কে ভয়ভীতির উর্ধ্বে তুলে নিরাপদ আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর অংশগ্রহণ ও অধিকার পাওয়াকে নিশ্চিত করতে হবে। জাতির উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও গতিশীল সমাজ সৃষ্টিতে দক্ষ মানবসম্পদেও বিকল্প নেই। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। তাই প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শুরু থেকে মজবুত ও টেকসই করতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর জন্য প্রারম্ভিক শিক্ষা। তাই এ শিক্ষাকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের জন্য যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম তৈরী করতে হবে। বর্তমানে এ শিক্ষাকে মান উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচী রয়েছে। কিন্তু মাঠ পযার্য়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার তৈরীর মাধ্যমে এর সুফল বাস্তবায়ন ধীর গতিতে। সরকারের কর্মসূচীর বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা সম্মিলিত ভাবে সমাজকে গ্রহণ করা উচিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়া প্রায় শতভাগ শিশু বিদ্যালয় ভর্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বছরের প্রথম দিনে নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। আর্থ-সামাজিকভাবে আমাদের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী অধিকাংশ শিশু নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসে। তাই স্বভাবতই তাদের অপুষ্টির শিকার হয়ে জন্মগ্রহণ হয়। জন্মের পরেও তারা অপুষ্টিতে ভোগে। তাই তাদের বিভিন্ন প্রকারের শারিরীক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের মেধা শক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। পারিবারিক অভাব অনটনের ফলে অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। ফলে তাদের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ঝরে না পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রচলন করেছে। এ বৃত্তির ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা যাওয়া ও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এটার সুফল প্রাথমিক শিক্ষায় মিলছে। প্রাথমিক শিক্ষায় আরো অধিক ভাবে নৈতিক শিক্ষা ঢেলে সাজানো উচিত। কারণ প্রাথমিক স্তর থেকে একজন শিক্ষার্থী তার নৈতিক চরিত্র শিক্ষা গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হলে সেটা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আজকের নানামুখী শিক্ষা কার্যক্রম দেশে চালু থাকলেও নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত নগণ্য এবং বিপর্যয় অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষা শিক্ষকদের প্রদান করা নিয়ম মাফিক রুটিন ভিত্তিক রাখা দরকার। জাতির অগ্রগতি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আদর্শিক শিক্ষিত জাতি গঠন করতে নৈতিক শিক্ষাকে প্রাধান্য রাখা চায়। নৈতিকতা ব্যতিরেকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা অর্জন বিস্তার সামাজিক অগ্রগতি বয়ে আনতে পারে না। তাই সব ধরনের পাঠ্য বইয়ের শিক্ষার সাথে ধমর্ীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা কাগজে কলমে বাস্তবে অনুশীলন সামাজিক দায়িত্ব। শিশুর নিরাপদ প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের সাথে নৈতিক শিক্ষার বাস্তবায়ন রক্ষা হোক।
লেখক
মাহমুুদুল হক আনসারী
সংগঠক,গবেষক,কলামিস্ট
মোবাইল:০১৮১৪৮৭৩৩৫৪
অতিথি পাখি | দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু
শীতের পাখি | শেখ একেএম জাকারিয়া
মানুষসহ সচরাচর সব প্রাণীদেরই সীমান্ত রেখা থাকে। পাখিদের কোন সীমান্ত রেখা নেই। পাখিরা বাঁচার তাগিদে, খাদ্যের অন্বেষণে পাখিরা স্বচ্ছন্দে সীমাহীন অন্তরীক্ষে পাখনা মেলে এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে বেড়ায়। বড়ো বিস্ময়কর তাদের বাসা বুনার কৌশল, সন্তান জন্মদান ও লালনপালন। প্রচণ্ড ঝড়-বাদল, প্রখর সূর্যকিরণ, তুষারপাতসহ প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে পাখিরা রওনা দেয় বহুসহস্র মাইল দূরের দেশে।
পাখি সম্পর্কে প্রাণিতত্ত্বে বিশদ বিবৃতি রয়েছে। পাখির সহজবোধ্য সংজ্ঞা হচ্ছে, ‘সচরাচর উড়তে পারে এমন, পালকে আবৃত দেহ, তীক্ষ দৃষ্টি ও প্রখর শ্রবণ শক্তিসম্পন্ন উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট ডিম্বাজ মেরুদণ্ডী প্রাণি বিশেষই পাখি। অথবা দুই ডানা ও দুই পা-যুক্ত এবং সাধারণত আকাশে ওড়ার ক্ষমতাযুক্ত ডিম প্রসবকারী প্রাণীই পাখি। বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে পাখির বিভিন্ন নাম দেখতে পাওয়া যায়। তারমধ্যে পক্ষী, বিহগ, বিহঙ্গ, খগ ইত্যাদি উল্লেখ্য। প্রাণিতত্ত্বের হিসাব মতে, পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৮৫৫ প্রজাতির পাখিই (প্রায় ১৯%) পরিযায়ী। ভারত উপমহাদেশে এ সময়ে ২ হাজার ১শ’ প্রজাতির পাখি আছে। যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩শ’ প্রজাতির পাখি শীত ঋতু আগমনের পূর্বে হেমন্ত ঋতুর প্রায় মধ্যভাগে ভারতের উত্তরপ্রান্তে অবস্থিত হিমালয়সহ অন্যান্য ছোটোখাটো পর্বতশ্রেণি অতিক্রম করে আমাদের দেশে উপস্থিত হয়। এসব পাখিদের আমরা পরিযায়ী পাখি, শীতের পাখি, অতিথি পাখি ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকি। সাধারণভাবে পরিযায়ী পাখির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে লিখতে হয়,’শীতঋতুতে অস্থায়ী বসবাসের জন্য উষ্ণতর দেশে গমন করে এমন পাখি, পরিযায়ী পাখি।
এ দেশে মৃদু হাওয়ায় যে সময়ে শীতের আভাস দেখা দেয় সে সময়ে হাওর-বাঁওড়, খালবিল, চরাঞ্চালে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মিলে। এসব পাখির অর্ধেকের বেশি ইংল্যান্ডের নর্থ হ্যামশায়ার, সাইবেরিয়া, এন্টার্কটিকার শীতাধিক্য থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং আহারের খোঁজে চলে আসে আমাদের দেশসহ অপরাপর কম শীতের দেশগুলোতে। তাছাড়া মঙ্গোলিয়া, জিনজিয়াং, ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ শীতপ্রধান অঞ্চল থেকেও আসে নানাপ্রজাতির পরিযায়ী পাখি। পরিযায়ী পাখি সাধারণত সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরের দিকে আমাদের দেশে দলবেঁধে আসা শুরু করে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সবুজ হলুদ ছায়াঘন রূপসী বাংলার নয়ন মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি পাখি আসে আমাদের বাংলাদেশে।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এসব পরিযায়ী পাখি তাদের গমনের লক্ষ্যস্থল শতভাগই ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারে। শীতঋতু এলেই অতিথি পাখির মধুর গুঞ্জনধ্বনিতে দি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নয়কুড়ি কান্দা, ছয়কুড়ি বিল মুখরিত হয়ে ওঠে। অতিথি পাখির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখি হচ্ছে জেন্ডা সিগলা (জাডানিক) বা সরালী হাঁস। কালচে, বড় ও লম্বা গলার এ হাঁস দেখতে অবিকল দেশীয় পাতিহাঁসের মতো। টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ে বসবাসরত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, সরালী হাঁস দিনের প্রথমভাগে ও শেষভাগে দলবেঁধে হাওর জলে সাঁতার কাটে ও মাছ ধরে। দিনের হালকা মিষ্টি রোদ এদের খুব প্রিয়। নৈসর্গিক বিপর্যয় বা শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য যেসব পাখি প্রতিবছর বহু সহগ্র মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে বিপদহীন বাসস্থানের খোঁজে, যেসব পাখি খাদ্যের নিশ্চিত সন্ধান, সন্তান জন্মদানের জন্য আপন করে বেছে নেয় বাংলার সবুজ ছায়াঘন সুনির্মল প্রকৃতি, সেখানেও বাজপাখির মতো প্রখর দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন শিকারির হাত থেকে বাঁচার সৌভাগ্য তাদের অনেক সময়ই হয় না।
শিকারির বন্দুকের গুলিতে অথবা শিকারির ফাঁদে প্রাণ হারাতে হয় নিজেদের অথবা তাদের স্বজনদের। প্রাণ হারানোর এমন আতঙ্ক সবসময় তাদের বিচলিত রাখে। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের দরিদ্র লোকজন অভাবের তাড়নায় পাখি শিকার করে শহরে, গ্রামে-গঞ্জের বাজারে কিংবা রাস্তা-ঘাটে বিক্রি করছে কিন্তু যারা কিনছে তারা শহরের শিক্ষিত ও বিত্তশালী। এই যে অবাধে আমাদের দেশে পাখি শিকার ও ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে এসব কিন্তু আদতে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, শুধুমাত্র রুচির পরিবর্তনের জন্যই তারা নিজেরা শিকার করে অথবা কিনে নেয় নানারকমের পরিযায়ী পাখি। একটা লেনজা কিংবা একটা সরালী হাঁসে আর কতটুকুইবা মাংস হয়? এসব পরিযায়ী পাখি ব্যাতিরেকেও প্রোটিনের চাহিদা মেটানো কিংবা রুচির পরিবর্তন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা ও নিসর্গের প্রতি অনুরাগই সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে। পাখি শিকারের মতো নিষ্ঠুর কাজ বন্ধ করতে হলে আমাদের গণসচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। এর জন্য পত্র-পত্রিকায় নিউজসহ রেডিও-টেলিভিশনে বিবিধ ডকুমেন্টারি প্রচার করা উচিত।
পরিযায়ী পাখির জন্য সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১২টি অভয়াশ্রম থাকার কথা। কিন্তু বস্তুত অভয়াশ্রম বলতে যা বুঝায় তা আজ অবধি সম্পূর্ণরূপে গড়ে উঠেনি। ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী পাখি শিকার ও হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। শীতের শুরুতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় অতিথি পাখি হত্যা, জাল ব্যবহার ও শিকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কিছু আইনগত কার্যকারিতা দেখায়। পরিতাপের বিষয়, কয়েক দিনের মধ্যেই এ তৎপরতায় ভাটা পড়ে। কিন্তু কেন এ তৎপরতায় এই ভাটা, এর ঠিক জবাব আমার জানা নেই।
সবুজ হলুদ ছায়াঘন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ, পাখির দেশ, গানের দেশ, কবিতার দেশ বাংলাদেশ পেয়েছে অতিথি পাখিসমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
আজব কাণ্ড | রফিকুল নাজিম
স্কুল বন্ধে শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে | জোবায়ের জুবেল
করোনার কারণে দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ হচ্ছে না। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষে অনুপস্থিতির ঘাটতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। শিশুরা ক্লাসের সেই হৈ-হুল্লোড় আর সহপাঠীদের সাথে খেলার মাঠে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছে। বাড়িতে থেকে থেকে তারা অতিষ্ঠ। বিশ্বের ১৯১টি দেশের উপর গবেষণা চালিয়ে স্কুল খুলে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে ইউনিসেফ। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় আমাদের দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে মহাসঙ্কটে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার বেসরকারি স্কুল বন্ধ হওয়ার পথে। এই বিরাট সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ঝরে পড়বে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী। বেকার হবে লক্ষাধিক শিক্ষক। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর প্রায় ৯৯ শতাংশই ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালায়। শিক্ষার্থীদের মাসিক টিউশন ফি দিয়েই তাদের খরচ নির্বাহ করে কিন্তু করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় উল্টো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে তাদের। গত ৮ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্ক থেকে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, স্কুল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত ৯ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহণে অগ্রগতি এবং সার্বিক কল্যাণে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের প্রতি পাঁচজন স্কুলগামী শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের ক্লাস বন্ধ রয়েছে অর্থাৎ মোট ৩২ কোটি শিশুর ক্লাস বন্ধ রয়েছে, যা গত ১ নভেম্বরের ২৩ কোটি ২০ লাখের চেয়ে প্রায় ৯ কোটি বেশি। তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের বৈশ্বিক প্রধান রবার্ট জেনকিনস জানান, স্কুলগুলো এই মহামারীর প্রধান চালিকাশক্তি নয়। তারপরও স্কুল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, এর ফলে অব্যাহতভাবে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ও সুরক্ষার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ইউনিসেফের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ৪৬৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর অনলাইনে ক্লাস করার মতো সুযোগ নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে ইন্টারনেট সেবা না থাকায় সেখানকার শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া শহরে ইন্টারনেট সেবা থাকলেও নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার কারণে ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না।
করোনায় সারা বিশ্বে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ শিশুর স্কুল বন্ধ। বিশ্বব্যাপী ৭২ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র। তাদের পক্ষে অনলাইন শিক্ষায় যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষায় যুক্ত হতে পারে না। স্কুলের কার্যক্রম সমূহ স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে বাল্যবিবাহ ও ঝরে পড়া কমানো, ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধিসহ যেসকল সাফল্য অর্জিত হয়েছিল;দীর্ঘ বন্ধের কারণে তাও হুমকির মুখে পড়ছে। শিশুদের যথাসম্ভব নিরাপদে রেখে স্কুলগুলো পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ইউনিসেফ বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। তবে হ্যা, অবশ্যই করোনা সংক্রমণের বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে। তাই স্কুল খোলার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও নিরাপদ পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে।
জোবায়ের জুবেল
নির্বাহী প্রকাশক, স্বর্ণলিপি প্রকাশন।
৪২৮ ডি ব্লক ( আবুল হোসাইন)
খোজার খলা, সিলেট সদর,
সিলেট।
একগুচ্ছ ঈদের ছড়া | আতাউর মালেক
১- 'স্বপ্ন ভাসে মায়ের চোখে'
রাতের বেলা চাঁদের আলো
ঝকমকিয়ে উঠে,
খোকন সোনা মায়ের কোলে
দেখছে খুঁটে খুঁটে!
বলছে মাকে, চাঁদটা মাগো
জ্বলছে কেন বলো,
চলোনা মা সেথায় গিয়ে
একটু ঘুরি চলো!
চাঁদে নাকি কোনসে বুড়ি
মিটমিটিয়ে হাসে,
পেঁজাতুলো মেঘেরা সব
কেমনে দেখি ভাসে!
খোকার এমন কথায় বাঁনে
ভরে মায়ের বুক,
স্বপ্ন ভাসে মায়ের চোখে
আসছে ঘরে সুখ!
২-'বলছে মাকে, ঈদটা মাগো'
খোকা বাবুর মনটা ভারী
বলছে না সে কথা,
এই করোনায় মরলো অনেক
তাইতো মনে ব্যথা!
ছোট্ট খোকা করবে কী আর
ছোট্ট মাথা তার,
বলছে মাকে, ঈদটা মাগো
করবো না এবার!
দেখছো না মা! আহাজারি
দুনিয়া জুড়ে আজ,
পায় না তারা চিকিৎসাটাও
করুন কিযে সাজ!
হাতটি রেখে খোকার মাথায়
রবকে ডাকে মায়ে,
শান্ত করে দাও না খোদা
তোমার শিতল ছাঁয়ে!
ভূতের বাবার জ্বর | পলাশ পাল
শিশু-কিশোর | রাসেল খান


.jpeg)
.jpeg)









