বিজ্ঞাপন

৬ষ্ট বর্ষে শিশুকিশোর টুনটুনি! টুনটুনির সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা!

পরিবেশ বাঁচান | আঞ্জুমান আরা।



 রাজু ক্লাশ সেভেনে পড়ে। স্কুল থেকে ফিরে এসে তাড়াতাড়ি করে দু'টো খেয়ে নেয়। তার পর আর পায় কে?সোজা মাঠে। বন্ধুদের কাউকে ডাকতে হয় না। খেলার মাঠে একত্রিত হওয়ার সময় সম্পর্ক সচেতন করার কোনো দরকার নেই। কারণ কিশোর বয়সে এই একটি ব্যাপারে সচেতনতা খোদার অসীম দান। 



চৈত্রের শেষে বিকেল বেলা যখন বৃষ্টি নামলো রাজু ও তার বন্ধুরা তখন মাঠে খেলছিলো। হঠাৎ দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো। নিমিষেই জীবন বাঁচাতে কে কেথায় উধাও হয়ে গেল, তার হিসেব রাখার জন্য মাঠে অবশিষ্ট আর কেউ ছিলোনা।

 ক্লান্ত দেহে বই পড়ার টেবিলে প্রতি দিনই ঝিমায় রাজু। মায়ের বকুনি খেতে খেতে পেটে পরে রোজকার রাতের খাবার। ওদিকে বৃষ্টিতে আজকের আবহাওয়ার খবর হলেই কাঁথা কম্বল জড়িয়ে আরামে ঘুমিয়ে পারো। তাই হলো।

 পরের দিন স্কুল থেকে ফিরে মাঠে খেলতে গেলো রাজু ও তার বন্ধুরা। মাঠে গিয়ে রাজু দেখতে পেলো অন্য পাড়ার কতগুলো দুষ্টু ছেলে ওদের মাঠে এসে ভীর করে আনন্দে মেতে উঠেছে। অথচ মাঠে জমে আছে প্রচুর পরিমানে পানি। ছেলেগুলো মাঠের দিকে শুধু ঢিল ছুঁড়ছে। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে গিয়ে রাজু দেখলো অসংখ্য ব্যাঙ গাল ফুলাচ্ছে আর ঘ্যঙোর ঘ্যাঙ করে ডাকছে।

  রাজু চেখ ছানাবড়া। ক্ষণিকের জন্য রাজু চমকে গেলো এই ভেবে, এতো ব্যাঙ কোথা থেকে আসলো ? আর ওরা লুকিয়ে ছিলোই বা কোথায়? কিন্তু দুষ্টু ছেলেগুলোর দুষ্টামি দেখে রাজুর মনটা ব্যথিত হলো। সে বইয়ে পড়েছে সকল জীবের প্রাণ আছে ও তাদের অনুভূতি আছে। আরো আছে বাঁচার অধিকার। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টিকর্তা মানুষেকে অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু দুষ্টু ছেলের দল ওদের কত নির্মম ভাবে মারছে। ওর মনে হলো ব্যাঙগুলো ওর কাছে বাঁচার আকুতি করছে। রাজু তার বন্ধুদের একপাশে ডেকে নিয়ে আসলো এবং গোল হয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,

 -ওরা যে ব্যাঙ গুলোকে মারছে তাতে তোদের কষ্ট লাগেনা ?  

পল্টু ও রকেট ঠোঁট দু'টো উল্টো করে বললো,

-নাহ!

মন খারাপ করে সিয়াম বললো,আমিও তোকে এই কথাটা বলতে চেয়েছিলাম রাজু।তাহলে চল ওদের বাঁচাই।

তারা সবাই মিলো দুষ্টু ছেলেগুলোকে তাড়িয়ে দিলো আর বেঁচে গেল কতগুলো প্রাণ।

সব কথা শোনার পর  মা আর কোনো দিন রাজুকে বকা দেননি।

 সিয়াম ইঞ্জিনিয়ার হলেও রাজু এখন প্রাণীবিদ্যার উপর ডিগ্রী লাভ করেছে। আর সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। 

অকারণে প্রাণী হত্যা বন্ধ  করুন,পরিবেশ বাঁচান।

ভূতের চিকিৎসা | আঞ্জুমান আরা

 



পাগল ভূতে কয় চেচিয়ে
জমেনা জমেনা,
তাবিজ কবজ কত দিলো
পাগলামি কমেনা।

নদীর জলে ডুবিয়ে রাখে
বেধে বস্তার মুখ,
তুললে আবার হেসে বলে
জলে বড্ড সুখ।

উল্টো করে গাছের ডালে
পা দু' টিকে বেঁধে,
পোটকা মাছ আর ব্যাঙের সুপ 
খেতে দিলে রেধে।

লোহা পুড়ে দিচ্ছে স্যাকা 
বদ্যি এসে তারে,
তার পরেও পাগলামি টা
বড্ড বেশি বাড়ে।

ত্রিশ দিন গাছের টেনে 
তুলবে তার বাপ কে,
দুবার করে চুমু খাবে
কিং কোবরা সাাপ কে।

গেলো চলে পাগলামিটা
ভূতের মাথা ঠান্ডা,
গেপন খবর মাঝ রাতে
বদ্যি মারে ডান্ডা।

টুনটুনি | স্বাগতা ভট্টাচার্য

 

ছোটো পাখি টুনটুনি

আম ডালে বাসা,

ছানা থাক দুধে ভাতে

এইটুকু আশা!


ছোটো-ছোটো চঞ্চুতে 

খঁড়কুটো আনে,

ভোর হলে ভরে দেবে 

ছড়া আর গানে


ঝড়, জলবাদলাতে

নিরাপদে থাকে!

জুটিবেঁধে সুখী ওরা,

কত ছবি আঁকে


 ছোটো পাখি, ছোটো নীড় 

ছোটো-ছোটো আশা,

ছোটো বুকে থাকে তার 

কতো ভালোবাসা


তবু নেই কোত্থাও 

উড়ে যেতে মানা!

মস্ত সে আকাশেতে,

মেলে দেবে ডানা



লেখক: স্বাগতা ভট্টাচার্য, 

নবগ্রাম, গঙ্গাজলঘাটি, বাঁকুড়া, ভারত।

তোমাদের জন্য বই


 শাকিব হোসাইন এর শিশুতোষ সায়েন্স ফিকশন গল্পের  বই “রোবট এলো মেরিন গ্রহে” 

পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৩ “ছোটদের সময়” প্রকাশনীর স্টলে। স্টল নং-৬৭৩।


 

অন‍্যরকম | অপর্ণা বসু



       


পুষি বলল মিয়াঁও আর বাঘা বলল ঘেউ
ঘরে তখন একলা আমি আর নেইতো কেউ!

পুষির মাথা চুলকে দিয়ে বাঘা কে দিই হামি
ওরাই আমার খেলার  সাথী  ভীষণ রকম দামি।

মা চলে যায় অফিসেতে বাবার অফিস ঘরে
অন লাইনে পড়ি আমি পিসী রান্না করে। 


পড়ার শেষে কার্টুন দেখি টিভির সাউন্ড মিউট
পুষি বাঘার চোখ গোলগোল মুখখানা কি কিউট!


এমনি করেই দিন কেটে যায় একই রকম কাজ
আজকে মায়ের অফিস ছুটি অন‍্যরকম আজ।

ঈদ আনন্দ একাল সেকাল | মাহমুদুল হক আনসারী

  


ঈদের আনন্দ পালিত হোক ঘরে ঘরে। ঈদ মানে খুশি উৎসব। আবহমান কাল থেকে মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার খুশি উদযাপিত হয়ে আসছে। রোজার শেষে ঈদুল ফিতর, আর পশু কুরবানির মাধ্যমে উদযাপিত হয় ঈদুল আযহার আনন্দ। এই আনন্দ মুসলিম বিশ্বের ঘরে ঘরে পালিত হয়। ধনী গরীব সকলের মাঝে ঈদের আনন্দ অপূর্ব ভাবে লক্ষ্য করা যায়। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এক আনন্দগন পরিবেশ তৈরি হয়। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যগরিষ্ট দেশ । এখানে ঈদের আনন্দটা দেখার মতো । 
ঈদ আনন্দ ছোটদের মধ্যে একরকম, বড়দের মধ্যে অন্যরকম । ছোটরা দুই ঈদের আনন্দ ভিন্ন ভাবে পালন করে থাকে। ঈদুল ফিতরের আনন্দ নতুন জামা কাপড় পরিধান করে পালন করে থাকে । আত্মীয় - স্বজনের বাড়ি , প্রতিবেশীর মহল্লায় মহল্লায় , ফিন্নি সেমাই নানা প্রকারের বাহারি আপ্পায়নে আনন্দকে উপভোগ করে । সাপ্তাহ পর্যন্ত এই আনন্দ তাদের মধ্যে চলতে থাকে । ঈদুল আযহার কুরবানি পশু নিয়ে, পশুকে গোসল করানো মালা পরানো গরুর বাজারে ঘুরাঘুরি এটা মুসলিম সমাজে কুরবানি দাতাদের মধ্যে একপ্রকার আনন্দ । বড়রা কুরবানির জন্য অর্থের জোগান দিয়ে থাকেন , আর অন্য বয়সের মানুষগুলো তা আনন্দের সাথে উপভোগ করে । 
ঈদুল ফিতরের সময় যেমনি ভাবে নতুন জামা কাপড় টাকা পয়সা দিয়ে গরিব আত্মীয় স্বজনের খবর নেয়া হয় , অনুরূপ ভাবে ঈদুল আযহার ঈদে পশু কুরবানি দিয়ে গোসত পরিবার পরিজনের সাথে ভাগ বন্টন করা হয় । আত্মীয় - স্বজন, গরীব, এতিম , মিসকিনদের মধ্যে বন্টন করা হয়। সবাই মিলে আনন্দে এবং স্বাচ্ছন্দের মধ্যে একে অপরের সাথে মিলে মিশে ঈদ আনন্দ উদযাপিত হয়। তবে এবছর কুরবানির ঈদ এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে , যখন বাংলাদেশের প্রায় অনেক অ ল বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত। সেই সব এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঘর বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে । তাদের পাশে সরকারের নানা মানবিক সাহায্য অব্যাহত আছে । পাশাপাশি মানবিক সংগঠন গুলো বন্যার্তদের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যার্ত এলাকার মানুষের দুঃখ লাঘবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে । 
বিভিন্ন এনজিও সংস্থা জাতীয় - আন্তর্জাতিক ভাবে ওইসব মানুষের পাশে দাড়াতে দেখা যাচ্ছে সামর্থ্যবান মুসলিম নাগরিকদের আহবান করবো তাদের পাশে যেন সামর্থ্যরে মধ্যে সবধরনের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া হয় । তারাও যেন ঈদের খুশি উপভোগ করতে পারে সেটা যেন সবশ্রেণির সামর্থ্যবান মানুষ দেখাতে সক্ষম হয়। ঈদের খুশি ভাগ-বন্টনের মধ্যে করা হলে সেখানেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব । আনন্দ খুশি সকলের মধ্যে সমান ভাবে পালিত হোক । মিলে মিশে সবাই মিলে ঈদ আনন্দ উৎসব পালনই হলো মুসলিম সমাজের ঐক্যের প্রতীক ।
সাম্য ভাতৃত্ব উৎসব সবকিছুতেই ঐক্য রাখতে হবে । সামর্থ্যবান আর সামথ্যের বাইরে সবমানুষের মধ্যে আনন্দ ভালোবাসা একত্রিত হোক । ইসলাম ঐক্যবদ্ধ সৃংখলা পূর্ণ জীবন বিধান শিক্ষা দেয় । সেই শিক্ষা ঈদের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তর প্রতিষ্ঠা হোক।


লেখক

মাহমুুদুল হক আনসারী
সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট



বুক রিভিউ- মায়াবনের রাজকন্যা

 


🐌🐌

❝মায়াবনের রাজকন্যা❞


বইয়ের নামঃ “মায়াবনের রাজকন্যা”


লেখকঃ ইউনুস আহমেদ 


প্রকাশকঃ লিখিয়ে প্রকাশনী 


প্রকাশকালঃ ২০২২ খ্রীস্টাব্দ


ধরনঃ শিশুতোষ রুপকথার গল্প 


প্রচ্ছদঃ  নিসা মেহজাবিন


অলংকরণঃ প্রীতিলতা চক্রবর্তী 


মূল্যঃ১৮০/-


বই আলোচনাঃ জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ও কল্পবিজ্ঞান লেখক ইউনুস আহমেদ  এর “লিখিয়ে পান্ডুলিপি পুরস্কার-২০২২” প্রাপ্ত বই 

❝মায়াবনের রাজকন্যা❞। বইটি মূলত শিশুতোষ রুপকথার গল্পের বই। বইটিতে মোট ৭ টি গল্প আছে। 

🦢🦢প্রথম গল্প- আকাশপাখি ও রাজকন্যা নীলাম্বরী। 


🐎মেঘরাজ্যের রাজকন্যা নীলাম্বরী গল্পের মুল চরিত্র। রাজকন্যা নীলাম্বরী বড়ই দয়ালু। কিন্তু সে সারাদিন রাজপ্রাসাদে বন্দী থাকে। তার খুব শখ পৃথিবী দেখার। কিন্তু মেঘরাজ্যে প্রায়শ এক কালো দৈত্যের আক্রমণ হয় সেজন্য রাজকন্যার নিরাপত্তার জন্যই তাকে প্রাসাদে থাকতে হয়। একদিন আকাশরাজ্যের আকাশ পাখির সাথে তার দেখা হয়। তার সাহায্যে সে পৃথিবী, মেঘরাজ্য ও আকাশরাজ্য ঘুরে দেখে। পৃথিবীতে গিয়ে শিশুদের সাহায্য করে। এভাবে গল্পটি শেষ হয়। এ গল্পের মুল বিষয় পরোপকার যেটা শিশুদের উপযোগী করে সুন্দর করে পরিবেশন করেছেন লেখক। গল্পটা ছোট্ট কিন্তু গোছানো।

🦢🦢দ্বিতীয় গল্প-ইচ্ছেপরীর গল্প


🐎এখানে মূল চরিত্র ইচ্ছেপরী। ইচ্ছেপরী মানুষের ইচ্ছে পুরন করে আর ফুল ফোঁটায়। কিন্তু পরীরানীর ভয়ানক শাস্তির ভয়ে কেউ রাজ্যের বাইরে যেতে পারেনা। অথচ ইচ্ছেপরীর অনেক ইচ্ছে পৃথিবী দেখার। কিন্তু ভয়ে সেটা করা হয় না। একদিন পরীদের নাচের অনুষ্ঠানের সময় সুযোগ নিলো ইচ্ছেপরী। চুপ করে পৃথিবীতে আসলো। ফুল্লরা নামের একটি মেয়ের ইচ্ছেপুরন করে সে। বাগানের ফুল ফোঁটায় গান গেয়ে নেচে নেচে। তারপর ফুল্লরার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পরীরাজ্যে পৌছে প্রহরীর হাতে ধরা পরে। পরীরানী কঠিন শাস্তি হিসেবে রাজ্য থেকে চিরদিনের জন্য বের করে দেন। তারপর থেকে ইচ্ছেপরী পৃথিবীতে বাস করে আর শিশুদের ইচ্ছেপুরন করে। যেনো কল্পনায় শিশুদের একটুখানি ভরসার জায়গা। যদিও বাস্তব পৃথিবীতে সত্যিকার ইচ্ছেপরীর খুব দরকার কোমলমতি শিশুদের ইচ্ছে বা দুঃখ লাঘব এ। এটাই এ গল্পের শিক্ষা।


🦢🦢তৃতীয় গল্প-“জেলেকন্যা ও মৎস্যকুমার”


🐎এ গল্পের মুল চরিত্র জেলেকন্যা অ্যালিনা। যার বাবা একজন জেলে এবং সমুদ্রে জাহাজে করে মৎস শিকার করে। অ্যালিনা প্রতিদিন বাবার পথপানে চেয়ে থাকে। সে সমুদ্রের ধারে একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে থাকে। তারপর গান ধরে। তার মিষ্টি সুরেলা গান শুনে সামুদ্রিক পাখিরাও চলে আসে। একদিন অ্যালিনা খেয়াল করে কিছু একটা সমুদ্রের তলা থেকে উপরে ভেসে আসে। দেখতে কিছুটা মানুষ আবার পা পর্যন্ত মাছের মতো। অ্যালিনাকে দেখে ভয়ে ডুপ দেয়। আরেকদিনের কথা। জেলেকন্যা আবারও সুরেলা গলায় গান ধরে। তার গান শুনে সমুদ্র থেকে সেই অদ্ভুত প্রাণীটা সত্যিই তারকাছে চলে আসে। আসলে সে একটা জলমানব মানে মৎস্যকুমার। মৎস্যকুমার আর জেলেকন্যার বন্ধুত্ব হয়। তারপর সে তাকে তার মৎস্য রাজ্যে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে এবং একটি মনিমুক্তার বাক্স উপহার দেয়। জেলেকন্যা তার বাবাকে সব বলে। কিন্তু জেলে ছিলো একটা লোভী। তাই সে সব হিরে জহরত একসাথে পাওয়ার লোভে মৎস্যকুমারকে জালে আটকানোর ফন্দি আঁটে। সে অন্যান্য জেলেদের সাথে পরামর্শ করে মৎসকুমারকে ধরতে গেলে মৎস্য কুমার সব বুঝতে পরে এবং জলের নিচে ডুব দিয়ে চলে যায়। আর কখনো ডাঙায় আসেনা। সেদিন থেকে জেলেকন্যা একা হয়ে যায়। 

🦢🦢 চতুর্থ গল্প “মায়াবনের রাজকন্যা” 

🐎 এ গল্পটি মুলত বইটির নামলিপি। মায়াবন নামে এক সুন্দর রাজ্য ছিলো। কিন্তু হঠাৎ সে রাজ্যে রাক্ষসীর আক্রমণ হয়। রাক্ষসীরা মায়াবনের রাজকুমার ও তার গোটা রাজ্যের লোকজনকে পাথর করে রাখে। শুধু পশুপাখি ও গাছপালা ছাড়া। গোটা মায়াবনে চলে রাক্ষসীদের তান্ডব ও অন্যায় রাজত্ব। পাশের দেশের রাজকন্যা লীলাবতী ঘুরতে আসে মায়াবনে। সে পশুপাখিদের কাছে জানতে পারে এটা শুধু বন নয় বরং একটা রাজ্য। তারা সব ঘটনা খুলে বলে রাজকন্যাকে। অবশেষে পশুপাখিদের সাহায্য নিয়ে রাজকন্যা রাক্ষসীদের প্রান নেয়ার জন্য তাদের এক কুৎসিত পাখি যার মধ্যে সব রাক্ষসীর প্রান রয়েছে সেটাকে খুঁজে বের করে। তারপর রাজকুমার হীরনকুমার কে খাঁচা থেকে মুক্ত করলে রাজকুমার সেই কুৎসিত পাখকে ধরে আকাশে উড়িয়ে দেয়। সাথে সাথে সব যাদু শক্তি নষ্ট হয়ে রাজ্য স্বাভাবিক হয় এবং রাক্ষসীরা বধ হয়। রাজা-রানি খুব খুশি হয়। তাীা রাজকন্যা লীলাবতীর সঙ্গে রাজপুত্র হীরনকুমারকে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠায় রাজকন্যা লীলাবতীর মা-বাবাকে। অবশেষে মহা ধুমধাম এ তাদের বিয়ে হয়। তারপর থেকে রাজকন্যা লীলাবতী মায়াবনে বাস করতে থাকে। 

🦢🦢 এর পর রয়েছে ৩ টি গল্প। এগুলো হলো

১/ রাক্ষসের বন 

২/রুনকি ও নীলপরি 

৩/ এক যে ছিলো রাজকন্যা 

এই বাকি তিনটি গল্পও আগের গল্পগুলোর মতই কাহিনি এবং চরিত্র দিয়ে পরিপূর্ণ । এগুলোতেও শিশুদের উপযোগী কল্পনারাজ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন লেখক। যেহেতু এই তিনটি গল্প বাকি গল্পগুলোর মতই তাই এগুলো আর আলাদাভাবে আলোচনা করলাম না। 

পরিশেষে বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি ও সংগ্রহে রাখতে অনুরোধ করছি । লেখকের জন্য শুভকামনা। 

শাহিন স্বপনের একগুচ্ছ ছড়া

 ১/ঘুড়ি




নীল আকাশে উড়ছে ঘুড়ি

লাটাই খোকার হাতে,

হাঁটছে খোকা এদিক-ওদিক
 
ঘুড়ির সাথে সাথে। 

বন পেরিয়ে উড়ছে ঘুড়ি

নীল আকাশের বুকে,

দারুণ সুখে হাসির ধ্বনি 

ফুটছে খোকার মুখে।

উড়ছে ঘুড়ি পতপতিয়ে
সবুজ মাঠের 'পরে,

ছোট্টখোকা অনেক খুশি

লাটাই হাতে ধরে।

ঘুড়ি নাচে তিড়িংবিড়িং 

বাতাস যেদিক ধায়,

খোকাও নাচে ঘুড়ির সাথে

দিন পেরিয়ে যায়।



২/আদর্শ খুকি



আজ ভোরে ছোট খুকি ঘুম থেকে উঠে,

বই নিয়ে তাড়াতাড়ি যায় ঘরে ছুটে।

বাবু স্যার না-কি তাকে পড়া দিছে মেলা,

তাই আজ বাদ গেছে তার সব খেলা। 

হাতমুখ ধুয়ে খুকি শুরু করে পড়া,

তা নাহলে ক্লাসে গিয়ে সাজা কান ধরা।

পড়ালেখা শেষ করে সব ঠিকমতো, 

ব্যাগে নিলো বই খাতা যেথা ছিলো যত।
 
তাড়াহুড়ো করে খুকি হাতঘড়ি দেখে, 

টিফিনের বাটি আজ গেছে ভুলে রেখে। 

ক্লাসে সব পড়া দিয়ে খুব খুশি খুকি, 

সখী হলো মিনা, শিখা আর হলো সুকি।

টিফিনের সময়েতে খুব খুশি মনে, 

একসাথে মিলেমিশে খায় চারজনে।

এভাবেই ছোট খুকি আজ ওঠে বেড়ে, 

প্রিয়দিন ছেলেবেলা, শৈশব ছেড়ে










নিরাপদ প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের করণীয় | মাহমুদুল হক আনসারী

 



শতভাগ শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করা সমাজের অন্যতম দায়িত্ব। সমাজকে এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুরা আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ, আগামীর ভবিষৎ। তাদের উজ্জ্বল ভবিষৎ গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের নিচে সকল বালক সন্তানকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করেছে। শিশুর জন্য চাই সুন্দর আগামী। এর জন্য প্রয়োজন নিরাপদ সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ। এসব বাস্তবায়নে শিশু অধিকার সনদ ও শিশুর সুরক্ষা গুরুত্ব দেয়া উচিত। একটি শিশুকে মানব প্রগতির অনিবার্য অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে যেসব সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা দরকার তার সবকিছুই শিশু অধিকার সনদে বিদ্যমান। শিশুদের অংশগ্রহণের অধিকার এবং শিশুর সুরক্ষার অধিকার সবকিছু সমাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর সামাজিক, পারিবারিক বিদ্যালয়ের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে তার কথা বলতে নির্ভয়ে সুযোগ করে দিতে হবে। ঘরে বাইরে এ সুযোগ থাকা চায়। তাই শিশুর মনন বিকাশে অংশগ্রহণের অধিকার প্রাথমিক স্তর হচ্ছে পরিবার ও বিদ্যালয়। পরিবার ও শিক্ষাকেন্দ্রে নির্ভয়ে তাদের মতামত প্রদান করার অধিকার শিশুদের থাকতে হবে। শিশুদেরকে শিশু সংগঠন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একইভাবে সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় শিশুকে স্বাধীন মতামত বা চিন্তা প্রকাশ করতে দিতে হবে। বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হওয়া ও নিজস্ব ভাষা ধর্মচচার্র স্বাধীনতা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ধমর্ীয় আচার অনুষ্টান ও নৈতিক চরিত্র চচার্র সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুদের অবাধ তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তাও দিতে হবে। বিদ্যালয়কে ভয়ভীতির উর্ধ্বে তুলে নিরাপদ আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর অংশগ্রহণ ও অধিকার পাওয়াকে নিশ্চিত করতে হবে। জাতির উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও গতিশীল সমাজ সৃষ্টিতে দক্ষ মানবসম্পদেও বিকল্প নেই। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। তাই প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শুরু থেকে মজবুত ও টেকসই করতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর জন্য প্রারম্ভিক শিক্ষা। তাই এ শিক্ষাকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের জন্য যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম তৈরী করতে হবে। বর্তমানে এ শিক্ষাকে মান উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচী রয়েছে। কিন্তু মাঠ পযার্য়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার  তৈরীর মাধ্যমে এর সুফল বাস্তবায়ন ধীর গতিতে। সরকারের কর্মসূচীর বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা সম্মিলিত ভাবে সমাজকে গ্রহণ করা উচিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়া প্রায় শতভাগ শিশু বিদ্যালয় ভর্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বছরের প্রথম দিনে নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে  তুলে দেয়া হচ্ছে। আর্থ-সামাজিকভাবে আমাদের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী অধিকাংশ শিশু নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসে। তাই স্বভাবতই  তাদের অপুষ্টির শিকার হয়ে জন্মগ্রহণ হয়। জন্মের পরেও তারা অপুষ্টিতে ভোগে। তাই তাদের বিভিন্ন প্রকারের শারিরীক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের মেধা শক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। পারিবারিক অভাব অনটনের ফলে অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। ফলে  তাদের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ঝরে না পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রচলন করেছে। এ বৃত্তির ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা যাওয়া ও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এটার সুফল প্রাথমিক শিক্ষায় মিলছে। প্রাথমিক শিক্ষায় আরো অধিক ভাবে নৈতিক শিক্ষা ঢেলে সাজানো উচিত। কারণ প্রাথমিক স্তর থেকে একজন শিক্ষার্থী তার নৈতিক চরিত্র শিক্ষা গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হলে সেটা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আজকের নানামুখী শিক্ষা কার্যক্রম দেশে চালু থাকলেও নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত নগণ্য এবং বিপর্যয় অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষা শিক্ষকদের প্রদান করা নিয়ম মাফিক রুটিন ভিত্তিক রাখা দরকার। জাতির অগ্রগতি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আদর্শিক শিক্ষিত জাতি গঠন করতে নৈতিক শিক্ষাকে প্রাধান্য রাখা চায়। নৈতিকতা ব্যতিরেকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা অর্জন বিস্তার সামাজিক অগ্রগতি বয়ে আনতে পারে না। তাই সব ধরনের পাঠ্য বইয়ের শিক্ষার সাথে ধমর্ীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা কাগজে কলমে বাস্তবে অনুশীলন সামাজিক দায়িত্ব। শিশুর নিরাপদ প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের সাথে নৈতিক শিক্ষার বাস্তবায়ন রক্ষা হোক।   


লেখক

মাহমুুদুল হক আনসারী

সংগঠক,গবেষক,কলামিস্ট

মোবাইল:০১৮১৪৮৭৩৩৫৪



অতিথি পাখি | দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু

 


 


শীতের ভোরে বসে যখন 
দেশের ছবি আঁকি,
চোখের সামনে ভেসে ওঠে
অতিথি সব পাখি।

নদীর তীরে বসে পাখি
বসে বিলে,লেকে 
মনটা আমার যায় ভরে যায়
পাখির নাচন দেখে।

গাছের ডালে হেলেদুলে 
মিষ্টি কুটুম পাখি,
ইচ্ছে করে এই দেশেতে
তারে বেঁধে রাখি।